আবারও ক্যারিবিয়ান স্বর্ণযুগের এক নায়কের ছোঁয়ায় বিকশিত হতে চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ১৯৯৭ সালে গর্ডন গ্রিনিজ যখন বাংলাদেশের কোচ হন, তখন আরেকবার এ আলোয় আলোকিত হয়েছিল দেশের ক্রিকেট। বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের ক্রিকেট উত্তরণের মূল ভিত্তি তো ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির সাফল্য। যার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন গ্রিনিজ। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল। কারণ তিনি সর্বকালের সেরা ত্রিকেটারদের একজন। ডেভ হোয়াটমোর কোচ হিসেবে হাই-প্রোফাইল হতে পারেন তবে খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি নিতান্তই সাধারণ। অবশ্য গ্রিনিজের সমকক্ষতা অর্জন করেতে পারেন কোর্টনি ওয়ালশ। কারণ নিশ্চিতভাবে তিনিও আছেন সর্বকালের সেরাদের কাতারে।
টাইগার বোলারদের হাল ধরতে আজ রাত সাড়ে আটটায় ঢাকায় নামবেন টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে (টেস্টে ৫১৯ ও ওয়ানডেতে ২২৭) ৭২৬ উইকেট নেওয়া এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তী। ওয়ালশের সংস্পর্শে এসে কী কী পাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা? মাশরাফি বিন মুর্তজা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি পাবেন তার স্বপ্নের নায়কের সান্নিধ্য। চলুন দেখা যাক কেন ওয়ালশ ছিলেন অনন্য।
শৃঙ্খলা
১৯৮৪ সালে ওয়ালশ শুরু করেন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়র। শেষ করেন ২০০১ সালে। ইনজুরি বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ওয়ালশ কখনই দল থেকে ছিটকে যাননি। ছোটখাটো ইনজুরির কথা আলাদা। এটি এড়াতে পারেন না কেউই, তবে বড় কোনও ইনজুরির পাল্লায় কখনও পড়েননি ওয়ালশ। তিনি ছিলেন সুপার ফিট। ৩৮ বছর বয়সে নিজের শেষ টেস্টে ছয় উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন তিনি।
শর্ট পিচ ডেলিভারি মাস্টার
ভীতিকর বাউন্সার বিশ্বসেরা পেসারদের মূল অস্ত্র কিন্তু এখানে ওয়ালশ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত। শর্ট পিচ ডেলিভারির মধ্যে তিনি এনেছিলেন বৈচিত্র্য। ব্যাটসম্যানদের পাঁজরে বল লাগানোর জন্য গতির বৈচিত্র্য বলা যায় তিনিই প্রচলন করেন। বর্তমান সময়ে যা স্লো বাউন্সার হিসেবে পরিচিত। তাতে ওয়ালশ ছিলেন সিদ্ধহস্ত। স্লো ইয়র্কারেও তিনি বধ করেছেন বাঘা-বাঘা ব্যাটসম্যানদের।
অনন্য লড়াকু মানসিকতা
মাঠে তিনি ছিলেন শান্ত ও ভদ্র। তবে বল হাতে নয়। মাঝে এক যুগ ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ক্রিকেটে সিরিজ হারেনি। ওয়ালশ তার দীর্ঘদিনের স্ট্রাইকিং পার্টনার কার্টলি অ্যামব্রোস মিলে ৯৪ টি টেস্ট খেলেন। আর তাদের এ জুটি বারবার ওয়েস্ট উন্ডিজকে বাঁচায়। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে সিরিজ জিততে শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য ২০১ রান। এক পর্যায়ে তারা ২ উইকেটে ১২৩ রান করে জয়ের কাছাকাছি গিয়েছিল। ওয়ালশ ও অ্যামব্রোস মিলে ২৫ রানে বাকি আটটি উইকেকটের পতন ঘটান। ওয়ালশ নিয়েছিলেন চারটি উইকটে।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টেস্টে অ্যাডিলেডে সিরিজ জেতার জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল দুই রান, হাতে এক উইকেট, ক্রেগ ম্যাকডার্মটকে কট বিহাইন্ড করে তিনি ওয়েস্ট উন্ডিজকে জেতান। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে তার নৈপুণ্যেই ভারতকে সিরিজ জয় থেকে বঞ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অনন্য খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা
১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের শেষ জুটি আবদুল কাদির ও সেলিম জাফর ব্যাট করছিলেন। ওভারের চতুর্থ বলে সেলিম জাফর ক্রিজের বাইরে চলে এসেছিলেন। তাকে 'ম্যানকাড' আউট করতে পারতেন ওয়ালশ। কিন্ত তা না করে জাফরকে সতর্ক করেন তিনি। পরে কাদির করেন জয়সূচক রান। ওয়েস্ট উন্ডিজ বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে। কিন্তু সারাবিশ্বে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নেন ওয়ালশ।
এর আগে আরেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেস সেনসেশন অ্যন্ডি রবার্টস বাংলাদেশে এসেছিলেন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। তবে ওয়ালশ থাকছেন তিন বছর। বাংলাদেশ পেসাররা তার কাছে শিখবে জানবে আর বিকশিত হবে এটি তো স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
/এমআর/








