দক্ষিণ আফ্রিকা বলেই সম্ভব। বড় লক্ষ্য জয় করার উদাহরণ তাদের অসংখ্য। সেই তালিকায় আরও একটি ম্যাচ যোগ হলো আজ (বুধবার)। অস্ট্রেলিয়ার ৫০ ওভারে ৩৭১ রানের লক্ষ্যটাও তারা পেরিয়ে গেছে ৪ বল হাতে রেখে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে ডেভিড মিলারের বীরত্বে। এই ব্যাটসম্যানের অসাধারণ সেঞ্চুরিতেই (৭৯ বলে হার না মানা ১১৮ রান) তো দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে ৪ উইকেটের জয়। তাতে দুই ম্যাচ আগে সিরিজও নিশ্চিত করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে মিলার। তবে আন্দিলে ফেলুকাওয়ের অবদানও কম নয়। আট নম্বরে নেমে ২০ বছর বয়সী তরুণ খেলেছেন হার না মানা ৪২ রানের কার্যকরী ইনিংস। আসল কাজ তার বোলিং হলেও সপ্তম উইকেট জুটিতে মিলারের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেছেন প্রোটিয়াদের।
ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথের সেঞ্চুরিতে টস জেতা অস্ট্রেলিয়া গড়ে রানের পাহাড়। ওয়ার্নার ১০৭ বলে ১৩ চার ও ২ ছয়ে খেলেছেন ১১৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস। আর স্মিথ ১০৭ বলে করেছেন ১০৮ রান, যাতে ছিল ৯টি চারের পাশাপাশি একটি ছক্কার মার। তাদের সঙ্গে অ্যারন ফিঞ্চ (৫৩), ট্রেভিস হেড (৩৫) ও জর্জ বেইলির (২৮) ইনিংসগুলোর ভর দিয়ে স্বাগতিকরা স্কোরে জমা করে ৩৭১ রান।
জবাবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা কুইন্টন ডি কক শুরুটা করেছিলেনে মারমুখী ভঙ্গিতে। তার সঙ্গে হাশিম আমলাও চড়াও হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ৬৬ রান। হামিশ আমলা ৪৫ রানে আউট হলেও ডি কক এগোচ্ছিলেন আরেকটি সেঞ্চুরির দিকে। যদিও ৪৯ বলের তার ইনিংসটি থামে ৭০ রানে। ডি ককের ব্যাটে দুর্দান্ত শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা মাঝে ফাফ দু প্লেসিস (৩৩), রাইলি রোসো (১৮) ও জেপি দুমিনির (২০) আউটে পড়েছিল ঝিমিয়ে। এর মধ্যে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে মিলারের। চোট অবশ্য থামাতে পারেনি এই ব্যাটসম্যানকে। সফরকারী বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিয়ে দলের রান বাড়িয়ে নেন তিনি। সঙ্গে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিও। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ১০ চার ও ৬ ছক্কায় হার না মানা ১১৮ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন মিলার।
এমন অসাধারণ ইনিংসে জয় নিশ্চিত করার পর ম্যাচ সেরার পুরস্কার যে তার হাতে উঠেছে, সেটা বলার দরকার আছে কী!
/কেআর/








