গত দুইদিন ধরে মাঠের বাইরে চলা ইস্যুগুলো নিয়ে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছেই! ওই ম্যাচে বাটলারসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার উত্তেজিত হয়েছিলেন। যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে-এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাইতো যে কোনও মূল্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে চাইবেন বাটলার। মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হয়ে আসা মঈন আলী সরাসরিই জানালেন বুধবারের ম্যাচটি নিয়ে তাদের অধিনায়কের ভাবনাটা।
মঈন আলীর সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মাশরাফির সংবাদ সম্মেলন। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশরা যে কতটা তাতিয়ে আছে ম্যাচ জিততে-বিষয়টি জানাতেই মাশরাফি নিজেরাও ম্যাচ জিততে কতটা মরিয়া সেটাও মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমরাও ম্যাচ জিততে মরিয়া থাকব। আমরা এখানে খেলতেই এসেছি। আমাদেরও চেষ্টা থাকবে জেতা। তবে বাইরের কিছু নিয়ে কেউ যদি জিততে চায়, তাহলে আমি বলব অপ্রয়োজনীয় চাপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে আমরা আমাদের সাধারণ খেলাটা খেলতে পারলেই হবে। এর বাইরে আমরা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না।’
জয়ের জন্য মরিয়া হলেও নিজেদের ফেভারিট মনে করছেন না মাশরাফি। প্রথম ম্যাচে কোনঠাসা এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের হারানোর পরও মাশরাফি মুখে ইংলিশদের নিয়ে সমীহ, ‘সিরিজ শুরুর আগেই বলেছিলাম, ইংল্যান্ড ভালো খেলছে। গত দুই ম্যাচেও ইংল্যান্ড ভালো খেলেছে। আমরা বরং সব বিভাগে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। পরের ম্যাচ আমাদের জন্য খুব বড় ম্যাচ। চেষ্টা করবো সেরা ক্রিকেট খেলতে। তবে আমরা নিজেদের ফেভারিট ভাবছি না।
রবিবারের ম্যাচে ঘটে যাওয়া মাঠের ঘটনাগুলো নিয়ে উত্তাপ ছড়ালেও মাশরাফি এগুলো গায়ে মাখছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ‘আমাদের দল পুরোপুরি স্বাভাবিক আছে। শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের কেউই বিষয়টি নিয়ে ভাবছেও না। আমাদের ভাবনা জুড়ে শুধুমাত্র- কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা যায়। আমি নিশ্চিত আমাদের ছেলেরা সবাই চেষ্টা করবে সুস্থির থাকতে এবং সেরা খেলাটা খেলতে।’
দুই দলের জয় একটি করে। স্বাভাবিক ভাবেই কালকের ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপান্তরিত হয়েছে। রবিবারের ঘটনার পর পরের ম্যাচে নিজেদের স্বাভাবিক রাখাটা কতটা চ্যালেঞ্জের, জানতে চাইলে মাশরাফির উত্তর, ‘আমাদের দিক থেকে আমরা চেষ্টা করবো স্বাভাবিক থাকতে, ক্রিকেটে মন দিতে। প্রতিটি ম্যাচের মতোই শুরু করব আমরা। আশা করবো মাঠে তেমন কিছু হবে না। আশা করছি ভালো একটি ম্যাচ হবে।’
২০১১ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ইংলিশদের বধ করেছিল বাংলাদেশ। এরপর চট্টগ্রামে আর খেলা হয়নি এই দুইলের। তাই আগের ইতিহাস অবশ্য খুব একটা টানছে না মাশরাফিকে, ‘আমার মনে হয় না সেসব ব্যাপার এখন আসবে। এনে লাভও নেই। ওদের ক্রিকেটার এখন যারা আছে, ওরা তখন ছিল না। ৪-৫ বছর আগের এইসব ব্যাপার মাঠে কোনও প্রভাব ফেলে না।’
/এফআইআর/








