ঘরের মাঠে খেলছে যেন দক্ষিণ আফ্রিকা। আর অস্ট্রেলিয়াকে মনে হচ্ছে সফরকারী দল, যাদের উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যুদ্ধ করতে হচ্ছে রীতিমত। চলতি অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজ দেখে এমনটা ভাবলে ভুল হবে না একটুও। ঘরের মাঠেই যে ভুগছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। পার্থ টেস্ট হারের পর হোবার্টের প্রথম ইনিংসে বড় লজ্জা পেল স্টিভেন স্মিথরা। ভারনন ভিল্যান্ডারের পেস ঝড়ে মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে তারা। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়ারা দিন শেষ করেছে ৫ উইকেটে ১৭১ রানে। তাতে সফরকারীদের লিড ৮৬ রানের।
দেশের মাটিতে ৩২ বছর আগের লজ্জা ফিরিয়ে আনল অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৪ সালের পর দেশের মাটিতে এত কম স্কোরে অলআউট হয়নি তারা। পার্থে সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৭৬ রানে। এ নিয়ে ঘরের মাঠে ৮৫ রানের নিচে অলআউট হলো তার দশমবারের মতো।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি অস্ট্রেলিয়ার কোনও ব্যাটসম্যান। ফিল্যান্ডারের পেস আগুনে মাত্র ৮ রানে হারায় তারা ৪ উইকেট। দলীয় ২ রানে ডেভিড ওয়ার্নারের আউট দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয়ের। কুইন্টন ডি ককের গ্ল্যাভসে ধরা পড়েন তিনি মাত্র ১ রান করে। খানিক পর কাইল অ্যাবটের আঘাত। এই পেসারের বলে জো বার্নস এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন ১ রান করে। শুরুর বিপর্যয় কাটাতে মাঠে নামা উসমান খাজা ৪ রানে ফিল্যান্ডারের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মাঠ ছাড়লে চাপটা আরও বাড়ে স্বাগতিকদের। পরে এই পেসার অ্যাডাম ভোজেস (০) ও জো মিনকে (১০) আউট করে পূরণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম ৫ উইকেটের ঘর।
বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন অধিনায়ক স্মিথ। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যান এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন তার সতীর্থদের আসা-যাওয়া। স্বাগতিকদের মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অ্যাবট। এই পেসার ৪১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
ব্যাট হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার স্টিফেন কুক ও ডিন এলগার যোগ করেন ৪৩ রান। যদিও এলগার (১৭) আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে প্রোটিয়াদের টপ অর্ডার। তাকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলা মিচেল স্টার্ক ওই ওভারেই ফেরান কুককেও (২৩)। জেপি দুমিনিও (১) ফিরে যায় দ্রুত। অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিস মাত্র ৭ রানে আউট হয়ে গেলে ৭৬ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা হারায় ৪ উইকেট। তবে তেম্বা বাভুমাকে সঙ্গে করে সেই চাপটা কাটিয়ে উঠেন হাশিম আমলা। পঞ্চম উইকেটে তারা যোগ করেন ৫৬ রান। যদিও হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থেকে আমলা (৪৭) আউট হয়ে গেলে ভাঙে তাদের জুটি। এর পর অবশ্য কুইন্টন ডি কককে (২৮*) সঙ্গে করে দিনের বাকিটা পার করে দিয়েছেন বাভুমা (৩৮*)। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
(প্রথম দিন শেষে)
অস্ট্রেলিয়া : প্রথম ইনিংস ৩২.৫ ওভারে ৮৫ (স্মিথ ৪৮*, মিন ১০, হ্যাজেলডউ ৮; ফিল্যান্ডার ৫/২১, অ্যাবট ৩/৪১)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রথম ইনিংস ৫৫ ওভারে ১৭১/৫ (আমলা ৪৭, বাভুমা ৩৮*, ডি কক ২৮*; স্টার্ক ৩/৪৯, হ্যাজেলউড ২/৩৬)।
/কেআর/








