শেষ বলে প্রয়োজন ৬ রান। উৎত্তাপ ছড়ানো এক ম্যাচ। বোলিং প্রান্তে থিসারা পেরেরা। অধিনায়ক মুশফিক ব্যাটিং প্রান্তে থাকা নুরুল হাসানের জন্য নতুন করে ফিল্ডিং সেট করলেন। পেরেরাও দেখে নিলেন সেটআপটা ঠিক আছে কিনা। ঠিক পরিকল্পনামতো বলটি করতেই উৎসব শুরু করলেন পেরেরা। সেই উৎসব ছড়িয়ে পড়লো মুশফিক থেকে অন্য ক্রিকেটারদের মাঝেও।
শেষ বলে ৬ রানের বদলে ১ রান তুলতে সক্ষম হয় রাজশাহী কিংস। আর তাতেই বরিশাল বুলস ম্যাচ জিতে ৪ রানের ব্যবধানে। এমন জয়ের পর অধিনায়ক মুশফিকই সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা। তাইতো বাঁধভাঙা উল্লাসে রাজশাহীর গ্যালারির দিকে মুখ করে ভিন্নধর্মী উদযাপন করলেন তিনি। মুশফিকের এই আনন্দ ততক্ষণে নিশ্চয়ই ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বরিশালে!
চার ছক্কার ধুম ধারাক্কা ক্রিকেট সেভাবে উপভোগ করতে পারছিল না বিপিএল-এর সমর্থকরা। কেননা রানই হচ্ছিল টেনেটুনে ১২০-১৩০! সেখানে উপভোগের মন্ত্রটা কোথায় পাবেন ক্রিকেট সমর্থকরা! তবে এই আসরের সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচটি ভক্তরা প্রাণ ধরে উপভোগ করলো আজকেই। বরিশাল বুলস ও রাজশাহী কিংস দুই দলই দারুণ ক্রিকেটে খেলেছে তিন বিভাগে। এমন ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই বলা চলে বিপিএল বুঝি প্রাণ ফিরে পেল।
বরিশাল বুলসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর সাব্বির রহমানও বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলেন এদিন। তাদের চার-ছক্কায় গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। এমনিতে রবিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি অনেকটাই কম। প্রায় দশ হাজারের মতো দর্শক ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন। বরিশালের সমর্থকরা দুর্দান্ত এক ম্যাচ দেখেই মাঠ ছেড়েছেন।
কেনও উপভোগ করবেন না? সাব্বিরের ব্যাট থেকে যে আগুন জড়েছে রবিবার। এই আগুনে অনেকটাই পুড়ে ছাড়খাড় হয়েছেন বরিশালের বোলাররা। ১৪ রানে জীবন পাওয়ার পর সাব্বির তার রানকে নিয়ে গেছেন ১২২ রানে। যা বিপিএল-এর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ১২২ রানে সাব্বিরকে না ফেরালে বরিশালকে হারতে হতো এটা এক প্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায়। সেই হিসেবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সাব্বির উইকেটটিকেই বলা যায়।
রাজশাহী কিংসের জন্য দুর্ভাগ্য বলতেই হয়। কেননা প্রথম ম্যাচটিও জয়ের কাছাকাছি গিয়ে জিততে পারেনি তারা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শেষ ওভারে ম্যাচটি হেরে যায় রাজশাহী। রবিবার শেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন ছিল রাজশাহীর জয়ের জন্য। মারকাটের ক্রিকেটে এটা খুব অল্প লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু ব্যাটিংয়ে থাকা নুরুল হাসান সোহান ও আবুল হাসান রাজু দুইজনই শেষ ওভারে ৯ রান তুলতে ব্যর্থ হলে রাজশাহী তাদের তৃতীয় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
/আরআই/এফআইআর/








