বিপিএল-এ চমক দেখানো অব্যাহত রেখেছে খুলনা টাইটানস। এবার শিরোপাধারী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে ১৩ রানে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।
১৪৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কুমিল্লা নয় উইকেটে ১৩১ রানে খেলা শেষ করে নেয় টানা তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ! অপরদিকে চার ম্যাচে এটি খুলনার তৃতীয় জয়।
মিরপুরে শিশির ভেজা পিচে বল ঠিকমতো ব্যাটে না আসায় মেরে খেলাটা কঠিন হয়ে যায় কুমিল্লার ব্যাটসম্যানদের। আবার ভালো সূচনাও পায়নি তারা, ওপেনার লিটন কুমারকে ৮ রানে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম আঘাতটি হানে খুলনা। দুটি চারের মারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠা লিটন, শুভাগত হোমকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে কেভন কুপারের হাতে ধরা পড়েন।
ইমরুল কায়েস তার ফর্ম ধরে রাখেন, দূরন্ত একটি কাভার ড্রাইভ ও একটি পুলে দুটি ছক্কা মারেন। শেষ পর্যন্ত জুনায়েদ খানের সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে। তবে ১৬ বলে ২১ রানের ইনিংসটি কুমিল্লার রানের চাকায় দেয় বাড়তি গতি।
এরপর শুরু হয় পেসার শফিউল ইসলাম-শো। তার প্রথম শিকার হন নাজমুল হোসেন শান্ত। গুড লেংথে বল পড়ে বাড়তি বাউন্স পেলে তা সামাল দিতে পারেননি শান্ত। অফস্টাম্পের আগায় আঘাত হানে বল। ফলে ১০ রানে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।
অভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যান মারলন স্যমুয়েলস খেলছিলেন দেখেশুনে। সেটহয়ে তিনি ব্যাট চালানো শুরু করেন। দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৪ বলে ৩০ রান করার পর তিনি হন শফিউলের দ্বিতীয় শিকার। শান্তকে বিদায় দেওয়ার বলটি পেয়েছিল বাড়তি বাউন্স। আর এবারের বলটি হলো স্যামুয়েলসের প্রত্যাশার চেয়ে নিচু। প্যাডে আঘাত করে আছড়ে পড়ে স্টাম্পে। শেষ হয় স্যামুয়েলসের ইনিংস। এরপরেই চালকের আসনে বসে খুলনা।
কে হবেন কুমিল্লার ত্রাতা? এমন প্রশ্নই যখন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখন মাঠে নামেন মাশরাফি। বল হাতে দলকে উজ্জীবিত করলেও ব্যাট হাতে তা করতে পারেননি। কেভন কুপারের বলে পাঁচ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
যদিও আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান ধরে রেখেছিলেন দলের জয়ের প্রত্যাশা। সাত বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১০ রান করার পর তিনিও বিদায় নেন। ফেরেন রানআউট হয়ে।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য কুমিল্লার প্রয়োজন ছিল ২০ রান। সেই ওভারে প্রথম বলেই রান আউট হন সৈকত আলী, শফিউলের এ ওভারটিতে সাত রান করতে পারে কুমিল্লা। ফলে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মাশরাফি বাহিনীকে।
শফিউল ১৯ ও জুনায়েদ খান ২৪ রানে দুটি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন খুলনার শফিউল।
/আরএম/এফআইআর/








