প্রায় দেড়মাস বল হাতে অনুশীলন শেষে সুখবর পেলেন মুস্তাফিজ। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী এই সুখবরটা দিয়েছেন। অবশ্য সুখবর এবাদতের জন্যও আছে। তারা দুইজনই নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে পুরো ফিট হয়ে উঠবেন আশা করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডে সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, সেই থেকে জাতীয় দলের বাইরে তিনি। সতীর্থরা যখন জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ফেরার লড়াই ব্যস্ত ছিলেন এই কাটার মাস্টার। গত ১ নভেম্বর থেকে বল হাতে নেন তিনি। ধীরে ধীরে বলের সংখ্যা এবং গতি দুটোই বাড়িয়েছেন।
প্রায় দেড়মাস বল হাতে অনুশীলন শেষে সুখবর পেলেন মুস্তাফিজ। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী এই সুখবরটা দিয়েছেন। অবশ্য সুখবর এবাদতের জন্যও আছে। তারা দুইজনই নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে পুরো ফিট হয়ে উঠবেন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিসিবির এই চিকিৎসক, ‘আজকে (রবিবার) সকালের অনুশীলন সেশনে মুস্তাফিজ ও এবাদত দুজনই বোলিং করেছে। ওরা দুজনই বোলিং সামর্থ্যের ৮০-৯০ শতাংশ বল করেছে। আমাদের ট্রেনার খুবই খুশি এই দুজনের অগ্রগতিতে। ৮০-৯০ শতাংশ সামর্থ্য দিয়ে বল করা মানেই হচ্ছে পুরো ফিট অবস্থায় আছে।’ ম্যাচ খেলতে গেলে পুরো ফিটনেস তারা ফিরে পাবেন বিশ্বাস দেবাশীষের, ‘মূলত শতভাগ সামর্থ্যের ব্যাপারটা আসে তখনই, যখন ম্যাচ খেলার সুযোগ আসবে। সেই হিসেবে তার ৮০ ভাগ সফলতাই আমরা শতভাগ হিসেবে ধরে নিচ্ছি। কয়েকটা দিন মাত্র সময় আছে। এর মধ্যে আরও একটা জিম সেশন ও বোলিং সেশন হবে, এরপর নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তা করবে অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড সফরের ব্যাপারে।’
প্রথমে ফিজিও বায়েজেদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করলেও এখন নতুন ফিজিও ডিন কনওয়ের তত্ত্বাবধানে মুস্তাফিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। মুস্তাফিজকে প্রথম দিন দেখেই ডিন কনওয়ে বলছিলেন খেলার মতো ফিট হতে কমপক্ষে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। তখন তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, ‘জানুয়ারির শুরুতে তাকে পাওয়া যেতে পারে। আমার মনে হয় (আগেভাগে মাঠে নামলে) বোলিংয়ের চেয়েও ঝুঁকিটা বেশি ফিল্ডিংয়ের সময় ডাইভ দেওয়া বা অন্য কোনও কারণে পড়ে গেলে। ম্যাচ খেলার মতো পূর্ণাঙ্গ ফিটনেস না অর্জন করে মাঠে নামা উচিত হবে না।’
এদিকে লিগ পর্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে নেমে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েছিলেন মোহাম্মদ শহীদ। আপাতত বিশ্রামে আছেন তিনি। আরও এক সপ্তাহ বিশ্রামের পর শহীদের প্রকৃত অবস্থা বলা সম্ভব হবে– এমটাই জানালেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ।
প্রসঙ্গত নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি ওয়ানডে, তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুইটি টেস্টের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ডিসেম্বরের ২৬ তারিখে তিন ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ক্রাইস্টচার্চে। বাকি ম্যাচ দুটি যথাক্রমে ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর নেলসনে অনুষ্ঠিত হবে। তিন টি-টোয়েন্টির প্রথমটি ৩ জানুয়ারিতে নেপিয়ারে গড়াবে। ৬ ও ৮ জানুয়ারি মাউন্ট মাউনগানুইতে হবে বাকি দুটি ম্যাচ।
দুটি টেস্টের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ওয়েলিংটনে। এটি শুরু হবে ১২ জানুয়ারি। শেষ টেস্টটি হবে ক্রাইস্টচার্চে ২০ জানুয়ারি।
/আরআই/এফএইচএম/








