বৃষ্টি ও বিপিএলের কারণে পিছিয় যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ড শুরু হলো মঙ্গলবার। টায়ার ১ এ বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রো মুখোমুখি হয়েছিল। এ দুই ম্যাচে তেমন কোনও ঝলক নেই। তবে টায়ার ২ এ দারুণ একটা দিন কাটিয়েছে সিলেট ও রাজশাহী বিভাগ। প্রথম শ্রেণীতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন সিলেটের আবু জায়েদ। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে বিপিএল খেলা এ ডানহাতি পেসার ৬ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেন ২০৪ রানে। তবে অন্য দলগুলোর অল্প পুঁজির স্কোরবোর্ডের দিনে রংপুর বেশ শক্ত ইনিংস গড়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩১৫ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে তারা।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টস জিতে সিলেট রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। জায়েদের পেসে খুব সুবিধা করতে পারেননি রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। তাদের ইনিংস সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান এসেছে ফরহাদ হোসেনের (৩৫) ব্যাটে। মূলত জায়েদই তাদের ব্যাটসম্যানদের মেলতে দেননি। মাত্র ১৬.৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে জায়েদ নেন ৬ উইকেট। অবশ্য সিলেট জবাব দিতে নেমে দ্রুত দুই উইকেট হারায়। ওপেনার সায়েম ইসলাম ৩০ রানে অপরাজিত থাকলেও দলের ৩০ রান হতেই ফরহাদ রেজার কাছে উইকেট হারান ইমতিয়াজ হোসেন ও জাকির হাসান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান আরিফুল হক ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। চট্টগ্রামের কাছে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯০ রানের মধ্যে ৬ উইকটে হারায় রংপুর। কিন্তু আরিফুল (৫২) ও সোহরাওয়ার্দীর (৬২*) ব্যাটিংয়ে ১১২ রানের জুটি গড়ে দলকে বাঁচান। এর আগে লিটন দাস করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৭২ রান।
হোসেন আলী ৩টি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২টি উইকেট নিয়ে রংপুরের রানের গতি থামিয়েছিলেন।
ঢাকা মেট্রোকে ১৬৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে বিপদে পড়েছে ঢাকা বিভাগ। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় ঢাকা বিভাগ। মোহাম্মদ শরীফ ৪টি ও নাজমুল ইসলাম ৩টি উইকেট নিয়ে ঢাকা বিভাগকে উল্লাসে মাতান। মেট্রোর হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। টুর্নামেন্টের বিরতির আগে মাত্র দুই ইনিংস খেলা মোহাম্মদ আশরাফুল করেছেন ৩৯ রান।
জবাব দিতে নেমে মাত্র ১৩ রানে ২ উইকেট হারায় ঢাকা বিভাগ। পরপর দুই ওভারে দুই ওপেনার আবদুল মজিদ ৮ রানে ও শূন্য রানে বিদায় নেন জয়রাজ শেখ।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টায়ার ১ এ জিয়াউর রহমান ও আশিকুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বরিশাল বিভাগের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৭১ রানে। দুইজনেই খুলনার পক্ষে তিনটি করে উইকটে নেন। এছাড়া দুটি করে পান আল-আমিন হোসেন ও বিশ্বনাথ হালদার। বরিশালের পক্ষে ৯৫ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ফজলে মাহমুদ।
জবাব দিতে নেমে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে খুলনা। মেহেদি হাসানের অপরাজিত ৫৫ রানের সুবাদে মাত্র ১ উইকেটে ১০১ রান করেছে তারা। ওপেনার হাসানুজ্জামানকে (২৩) নিয়ে তিনি ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। অপর প্রান্তে ১৫ রানে খেলছেন এনামুল হক বিজয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর- প্রথম দিন শেষে
টায়ার-১
বরিশাল-খুলনা
বরিশাল- প্রথম ইনিংস: ৬০.৪ ওভারে ১৭১ রান (ফজলে ৯৫; জিয়াউর ৩/২৯, আশিকুর ৩/৩৩)
খুলনা- প্রথম ইনিংস: ২০ ওভারে ১০১/১ (মেহেদি ৫৫*, সালমান ১/২৪)
ঢাকা মেট্রো-ঢাকা বিভাগ
ঢাকা মেট্রো- প্রথম ইনিংস: ৭৭.১ ওভারে ১৬৬ (সাদমান ৪৭, মোহাম্মদ আশরাফুল ৩৯; শরীফ ৪/৩৫)
ঢাকা বিভাগ- প্রথম ইনিংস: ৬.২ ওভারে ১৯/২ (মিনহাজ ৮*; সৈকত ১/৫)
টায়ার-২
রংপুর-চট্টগ্রাম
রংপুর- প্রথম ইনিংস- ৭৬ ওভারে ৩১৫/৭ (লিটন ৭৩, সোহরাওয়ার্দী ৬২*, আরিফুল ৫২; হোসেন ৩/৬৪)
রাজশাহী-সিলেট
রাজশাহী- প্রথম ইনিংস: ৬৫.৫ ওভারে ২০৪ (ফরহাদ ৩৫, মিজানুর ৩২; জায়েদ ৬/৪৮)
সিলেট- দ্বিতীয় ইনিংস: ১৫ ওভারে ৪৩/২ (সায়েম ৩০*; ফরহাদ ২/২৬)
/এফএইচএম/








