সত্যিই হীরা চিনতে ভুল করেননি নির্বাচকরা। মোসাদ্দেক তার প্রমাণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রাখলেন আরও একবার। ব্যাট হাতে যখন নামলেন, তখন ১৬৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। দল হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করার দুর্দান্ত এক ক্ষমতা দেখালেন মোসাদ্দেক। অপরাজিত রইলেন ৫০ রানে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৯ তম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। নিজের অভিষেক ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত এই অলরাউন্ডার। খেলেছিলেন অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ দিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মোসাদ্দেক সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘কিছু কিছু ক্রিকেটার আছে যাদের মেধা আগে থেকে খেয়াল করা যায়। মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করেছে। আমরা মনে করি, সে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠেছে।’
সত্যিই হীরা চিনতে ভুল করেননি নির্বাচকরা। তার প্রমাণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রাখলেন আরও একবার। ব্যাট হাতে যখন নামলেন, তখন ১৬৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। দল হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করার দুর্দান্ত এক ক্ষমতা দেখালেন মোসাদ্দেক। অপরাজিত রইলেন ৫০ রানে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে মুশফিকের সঙ্গে ৫২, মাশরাফির সঙ্গে ২৩, তাসকিনের সঙ্গে ১০ ও মুস্তাফিজের সঙ্গে ১২ রানের জুটি গড়েন তরুণ এই ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
কঠিন সময়ে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার সুনাম তার দীর্ঘদিন ধরেই। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনীর জার্সিতে অনেক কঠিন পরিস্থিতে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতেয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার।
কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে একাদশে সুযোগ পাবেন কিনা-বিষয়টি নিয়েই ছিল সংশয়। কোচ একবার ভেবেও ছিলেন মোসাদ্দেককে বসিয়ে রেখে লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারকে খেলানোর। কোচের কাছে তানভীরের গ্রহণযোগ্যতা বেশি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একাদশে ঠাঁই হয়েছে মোসাদ্দেকের।
প্রথম ম্যাচে শুরুটা অবশ্য করেছিলেন বল হাতে নিয়েই। ৭ ওভার বল করে ৪০ রান দিয়ে উইকেশূন্য থাকলেও বেশ কার্যকরী ছিলেন। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে নিজের সামর্থ্যের আবারও প্রমাণ রাখলেন নতুন এই ক্রিকেটার।
৫০ রানের ইনিংসটি খেলেছেন পরিণত ব্যাটম্যানদের মতো। ৫টি চার এবং ৩টি ছয়ে তিনি তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন। আত্মবিশ্বাসই তাকে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ম্যাচে এনে দিয়েছে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।
এর আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ৪৫। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে তিনি এই রান করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ী হওয়া দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও তিনি অপরাজিত ৩৮ রান করেছিলেন।
লোয়ার মিডল অর্ডারে একজন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে দল যেমনটা প্রত্যাশা করে তার পুরোটাই পূরণ করছেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। সব মিলিয়ে চাপ নেওয়ার অসাধারণ এক ক্ষমতা তার রয়েছে। নেলসনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে হয়তো তার এই ক্ষমতা তাকে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলা হয়নি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। ৬টি ওয়ানডে খেলে ৫৫.৩৩ গড়ে তার রান সংখ্যা ১৬৬। অন্যদিকে একটি মাত্র টি-টোয়েন্টি খেলা মোসাদ্দেক, ওই ম্যাচে করেছেন ১৫ রান।
/এফআইআর/







