স্যাক্সটন ওভালের মাঠ থেকে বেরুবার সময় বাংলাদেশি দেখে ভেন্যুর কর্মীদের একজন বললো ‘পারু’। প্রথমে মনে হয়েছে বাংলা পারুল শব্দটি সে বলার চেষ্টা করলো কেনও? এরপর তার দিকে এগিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, ‘সরি আই কান্ট আন্ডারস্ট্যান্ড মেইট।’ ছেলেটি কিছু না বলে হাসতে থাকে। পীড়াপীড়িতে আসল কথাটি যখন বললো, তখন নিজেও হাসতে হয়। অপমানও লাগে। ‘পারু’ একটি মাউরি শব্দ। এই ছেলেটি মাউরি আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য না হলেও সম্ভবত মাউরি কিছু শব্দ শিখে রেখেছে। এই সুযোগে এর একটি কাজে লাগিয়েছে। মাউরি ‘পারু’ শব্দটিই ইংরেজিতে হোয়াইটওয়াশ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ৩-০ তে পরাজয় তথা হোয়াইটওয়াশের প্রেক্ষিতে এই মাউরি শব্দটি উপহার হিসাবে শোনানো হয়েছে। যেমন কিউইদের বাংলাদেশে সিরিজ হারের পর বলা হয়েছিল ‘বাংলাওয়াশ’।
হ্যাঁ, বাংলাদেশ সত্যি সত্যি ‘পারু’ হয়ে শনিবার শেষ করেছে তাদের নেলসন মিশন। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে কিছুদিন আগে পাকিস্তানও নাস্তানাবুদ হয়েছে। বাংলাদেশ এসে এখানে আহামরি কিছু করে ফেলবে তা ক্রিকেট বোদ্ধারা ভাবেননি। তবে চেষ্টা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্পসহ কোচ যা যা চেয়েছিলেন এরকিছুই বাদ রাখেনি বিসিবি। বাংলাদেশের এ দলটিকে বলা হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষাও বলছিল তারা অনেক আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এর প্রয়োগতো দেখা যাবে মাঠে। তা আর হলো কোথায়? ক্রাইস্টচার্চে প্রথম ম্যাচে দল রানের পাহাড়ের নিচে দাঁড়িয়ে ৭৭ রানে হারলেও যে লড়াকু ভাব দেখা গিয়েছিল, নেলসনের দুই ম্যাচে তা দেখা যায়নি। শনিবারের ম্যাচতো তারা যাচ্ছেতাইভাবে হেরেছে।এক মুশফিকের চোট মানে দলের সব সমীকরণ ওলটপালট? প্রশ্ন উঠেছে সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনও গ্রুপিং-ঐক্যের অভাব কাজ করছে কিনা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফিকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল। সরাসরি উত্তর না দিলেও মাশরাফি বলেছেন, ‘মুশফিকের চোটের পর দলকে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করে চালিয়ে নেওয়া দরকার ছিল তা আমরা পারিনি।’
এভাবে সবকিছুর যোগফলটি হলো- কোনও আশাই কাজে লাগলো না। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেলো। শনিবার টস জিতে বাংলাদেশ যেভাবে শুরু করেছিল তাতে মনে হয়েছিল নিউজিল্যান্ড সমর্থকদের বর্ষবরণ উদযাপনটাই বুঝি মাটি হয়ে গেলো। কিন্তু তা হলো না। একটি ক্যাচ মিসতো ম্যাচ মিস- বলে ক্রিকেটে যে প্রবাদবাক্য আছে আজ তা নেলসনের স্যাক্সটন ওভালের ম্যাচে সত্য হয়ে ধরা দিল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই। কিউই দল তাদের কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ম্যাচে জয় বের করে নিয়েছে। বাংলাদেশ পারছে না।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যখন হতাশায় নিমজ্জিত কিউই দলের খেলোয়াড়রা শনিবারও তখন ভক্তদের অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত। কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে। শনিবার ম্যাচ শেষে কিউই ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন মিডিয়া ব্রিফিং-এ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে খেলায় যা হয়েছে, তাদের যেখানে যে ঘাটতি ছিল তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ পাওয়া গেছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের শুধুই উন্নতি হচ্ছে। উইলিয়ামসনের এ কথাগুলোর পর মাশরাফি বলেন তার হতাশার কথাগুলো। বিদায়ী বছরে নেলসনের এসব হতাশা নেলসনে ফেলে রেখে নতুন বছরের প্রথম দিন বাংলাদেশ যাচ্ছে নেপিয়ারে। নেলসনের হতাশা কি নেপিয়ারেও পিছু পিছু যাবে? আশাবাদী মানুষ চায় তা সেখানে না যাক!
/এফআইআর/








