জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। শেষ পর্যন্ত যখন এউইন মরগান এলেন না বাংলাদেশে, তখন নিজের দেশের মানুষেরই কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। এতটাই যে তার পরিবার আর সহ্য করতে পারছিল না। মরগান নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।
ইংল্যান্ডের সীমিত ওভার ক্রিকেটের অধিনায়ক মরগান। গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর তার বাংলাদেশ সফর নিয়েই আলোচনা হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। আর হবেই বা না কেন, দল ঘোষণার আগে কম নাটকের তো আর জন্ম দেননি এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘অজুহাত’ দাঁড় করিয়ে যখন বাংলাদেশে এলেন না, তখন অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও। এমনকি ইংল্যান্ড দলে আর সুযোগ নাও হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন সাবেক অনেক ইংলিশ ক্রিকেটার। দেশের মানুষের কাছেও শুনেছেন ধিক্কার। কঠিন ওই পরিস্থিতি খুব কাছ দেখে দেখেছে তার পরিবার। বিষয়টা নিয়ে এত বেশি সমালোচিত হচ্ছিলেন মরগান যে, রীতিমত ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে পড়েছিল তার পরিবার। অন্য সব খেলোয়াড়দের যেখানে বাংলাদেশ সফরে যাওয়া নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না, সেখানে অধিনায়ক হিসেবে দেশের প্রতি তার দায়বদ্ধতার অভাবটা একেবারেই মেনে নিতে পারেনি ইংলিশরা।
নিজেদের ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছে ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরিস্থিতিটা মরগানের পরিবারের জন্য কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন ‘বিবিসি’কে। বাংলাদেশ সফরে না যাওয়ার নিয়ে তৈরি হওয়া সেই পরিস্থিতি মরগান বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘এই বিষয়টা (সমালোচনা) নিয়ে আমার যে ভাবনা ছিল, সেটা হলো এই ইস্যু থেকে একেবারেই বাইরে থাকা। আর আমি সেটাই করেছিলাম।’ যদিও সমালোচকদের কড়া কথা হজম করতে সমস্যা হচ্ছিল তার পরিবারের সদস্যদের। মরগানের ভাষায় যা এমন, ‘সবচেয়ে বেশি এই বিষয়টার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমার পরিবারকে। তারা এটাতে অভ্যস্ত নয়, তাই ওরা প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিল। যাইহোক, অর্জনের পথে ওটাও ছিল জীবনের একটা অংশ।’
বাংলাদেশে না আসার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল কিনা, এমন প্রশ্নে মরগান বলেছেন, ‘এতে আমার কোনও দুঃখ নেই। সব দিক ভেবেচিন্তেই আমি সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম। এই কারণে সিদ্ধান্তটা নিয়ে আমি খুশি।’ বিবিসি
/কেআর/








