উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে বেশ হালকা মেজাজেই খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় দিন হাফসেঞ্চুরি মেরেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তৃতীয় দিন প্রথম সেশনে অপর প্রান্তের চার ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরতে দেখলেও ধীরস্থির খেলেছেন তিনি। ১০৭ বলে চারটি চার ও একটি ছয়ে ক্যারিয়ারের ১৬তম পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস পান মুশফিক। যদিও শেষ দিকে সেঞ্চুরির দিকেই ছিলেন কিন্তু রঙ্গনা হেরাথের স্পিনে থিতু থাকতে পারলেন না। ৮৫ রানেই বোল্ড হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। চা পানের বিরতির আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩১২ রান।
বিদায় নেওয়ার আগে তার সঙ্গে শতাধিক রানের (১০৬) জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে ৪১ রানে ফিরিয়ে দ্বিতীয় সেশনের প্রথম উইকেট নেন দিলরুয়ান পেরেরা। পরের বলেই ফেরেন নতুন নামা তাসকিন আহমেদ। শুরুতে লেগবিফোরের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিলে সাজঘরেই ফিরতে হয় তাসকিনকে। অবশ্য এর আগেই মুশফিকে ভর করে ফলোঅনটা এড়িয়েছে সফরকারীরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটা হবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময় যতই বাড়বে ততই স্পিনে সুবিধা পাবে শ্রীলঙ্কা। আর তাই প্রথম সেশনটা দেখেশুনে খেলার পক্ষপাতী ছিলেন সফরকারী কোচ। তবে সেটা মানতে পারলে তো! বৃহস্পতিবার প্রথম সেশনেই চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিন সকালটা ভালো শুরু হয়নি বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার তৃতীয় ওভারেই সৌম্য সরকারকে আউট হতে হলো। একটু মারকুটে ব্যাটিং করে তাকে অনুসরণ করেছেন সাকিব আল হাসানও।
এদিন মাত্র ৫টি রান যোগ করতে পেরেছেন সৌম্য। ২ উইকেটে ১৩৩ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে বুধবার তামিম ইকবালের বিস্ময়কর আউট ছাড়া বাংলাদেশ ভালোই প্রতিরোধ গড়েছিল। সৌম্য তার ফিফটিকে সেঞ্চুরি বানানোর পথেই ছিলেন। কিন্তু ৬৬ রানে দিন শুরু করা এ ব্যাটসম্যান নতুন দিনে বেশিদূর এগোতে পারলেন না। কোমড় সমান উঁচুতে আসা সুরাঙ্গা লাকমলের বলটি পুল করতে গিয়ে সোজা ফাইন লেগে তালুবন্দি হন সৌম্য। ৭১ রানে তাকে থামতে হয় লাহিরু কুমারার ক্যাচ হয়ে।
একটি করে চার ও ছয় মেরে লাকসান সান্দাকানের বলে লেগে উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলার ক্যাচ হন সাকিব। ১৯ বলে থামে তার ২৩ রানের ইনিংস। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরতে দেখলেন। ২৬টি বল খেলে মাত্র ৮ রানে আউট হলেন মাহমুদউল্লাহ। লাহিরু কুমারার বলটি তার অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। মাত্র ১৩ বল খেলে ৫ রানে আসেলা গুনারত্নের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লিটন দাস। বাংলাদেশের উইকেটরক্ষকের উইকেটটি নেন লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ।
লাঞ্চের চার বল আগে আরেকটি উইকেটের পতন হতে পারত বাংলাদেশের। সান্দাকানের বল তুলে মারেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু ফার্স্ট স্লিপে দাঁড়ানো গুনারত্নে সহজ ক্যাচটি ছেড়ে দেন। ১১ রানে জীবন পেয়ে প্রথম সেশন শেষ করেন মিরাজ। তাকে থামতে হয় ফিফটি থেকে ৯ রান দূরে থাকতে, খেলেছেন ৭৭ বলের ইনিংস।
/এফআইআর/








