বিশ্ব জয় এখনও হয়তো করতে পারেননি, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবেই সবার মন জয় করে নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। যদিও ইদানীং তার বোলিংয়ের সেই ধার নেই। কিন্তু তা নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই ‘দ্য ফিজ’ এর মনে। তার লক্ষ্য, ‘ভালো মানুষ’ হয়ে সবার মনে জায়গা করে নেওয়া।
২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। প্রথম ম্যাচে ৫ ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে তিনিই ছিলেন ভারত-বধের প্রধান নায়ক। গত বছর আইপিএলে প্রথম খেলতে নেমেও সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন কাটার মাস্টার। ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রথম শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার।
কিন্তু কাঁধে অস্ত্রোপচারের পর নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছেন সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা মুস্তাফিজ। এ বছর তিনি খেলেছেন পাঁচটি ওয়ানডে, চারটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট। এই ১১ ম্যাচে তিনি তুলে নিয়েছেন ২৩ উইকেট। পারফরম্যান্স হয়তো যথেষ্ট ভালো, কিন্তু আগের মুস্তাফিজের সঙ্গে বর্তমান মুস্তাফিজের পার্থক্য প্রকটভাবে ধরা পড়ছে প্রতিনিয়ত।
অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন তিনি। প্রত্যাবর্তনটা তেমন ভালো হয়নি। নিউজিল্যান্ডে মাত্র একটি উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে একমাত্র টেস্টে খেলেননি। ‘ঐতিহাসিক’ টেস্টে না থাকার কারণ সম্পর্কে এই প্রতিভাবান পেসার বলেছেন, ‘আমি ওই টেস্টের জন্য ফিট ছিলাম না।’
সদ্য সমাপ্ত শ্রীলঙ্কা সফরে অবশ্য তার ভালোই পারফরম্যান্স। দুই টেস্টে ৮ উইকেটের পর তিন ওয়ানডেতে ৬টি এবং দুটো টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তবু ঠিক সন্তুষ্ট নন। এই সফর নিয়ে তার মূল্যায়ন, ‘শ্রীলঙ্কায় যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে বল করতে পারিনি। বল ঠিক জায়গায় ফেলতে পারিনি, লেন্থেও সমস্যা ছিল। অবশ্য শেষ ওয়ানডেতে ছন্দ ফিরে পেয়েছিলাম, টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভালোই খেলেছি।’
এবারের আইপিএল শুধু হতাশই করছে মুস্তাফিজকে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ওই ম্যাচে ২.৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। পরের দুই ম্যাচে আর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। তবে ব্যর্থতা নিয়ে তিনি তেমন উদ্বিগ্ন নন, ‘কখনোই মাথায় সফলতার কথা ঢুকতে দেই না। কোনও বড় ঘটনা, দারুণ প্রতিভা ও অন্য অনেক বিষয় নিয়ে আপনারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেন। আমি এসব নিয়ে একটু ধন্দে পড়ে যাই।’
ভবিষ্যতে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান এমন প্রশ্নে কাটার মাস্টারের সহজ-সরল উত্তর, ‘আমি যদি সেরা ক্রিকেটার নাও হতে পারি, অন্তত একজন ভালো মানুষ হিসেবে সবার মনে জায়গা পেতে চাই।’ সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফএইচএম/এএআর/
আরও পড়ুন:








