আগামী ৩০ মে মোবাইল ফোন অপারেটর রবির সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে আগামী দুই বছরও জাতীয় ক্রিকেট দলের পাশেই থাকছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টাইগারদের স্পন্সর হয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। দুই বছরের হলেও চুক্তিটা আসলে ২৫ মাসের। কারণ চলতি বছরের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত চুক্তি করেছে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার বিকালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ নতুন স্পন্সর হিসেবে রবির নাম ঘোষণা করেছেন।
এসময় তিনি বলেছেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি গত বছরের মতো হয়েছে। আমাদের চাটার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্ম বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভিত্তিমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য পাওয়ায় রবিকে স্পন্সরশিপ দিয়েছি আমরা। তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকবে। গতবারের চেয়ে আমরা প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থ বেশি পাচ্ছি। এর মূল কারণ, বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে।’
কাজী ইনাম আহমেদ আরও যোগ করে বলেছেন, ‘রবিকে দ্বিতীয়বারের মতো পেয়ে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। গত দুই বছর তারা আমাদের সাপোর্ট করেছে। আশা করি, এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে থাকতে পেরে রবির চিফ করপোরেট ও পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদও খুশি। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আবারও সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তৈরি করছে বিশ্বের সেরা ক্রিকেট দল। আর রবি তৈরি করছে বাংলাদেশের সেরা নেটওয়ার্ক। অতীতে আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আগামীতেও একসঙ্গে থাকবো।’
বিসিবি নতুন একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে চুক্তিতে। এর আগে আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতায় কোনও কোম্পানি চুক্তি করার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এবার রবি আইসিসির ইভেন্টেও স্পন্সর হিসেবে থাকতে পারবে। তবে আইসিসির বেঁধে দেওয়া নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে রবিকে।
বিসিবির আইনজীবী ও বাণিজ্যিক কমিটি অর্থনৈতিক প্রস্তাবগুলো বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করে অনুমোদন দেওয়ার পরই রবির নাম ঘোষণা করেছে বিসিবি। বাংলাদেশ পুরুষ, নারী, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ‘এ’ দলের স্পন্সরশিপের দায়িত্ব পালন করবে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিক অবস্থায় পাঁচটি কোম্পানি টাইগারদের স্পন্সরশিপের লড়াইয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে প্রাণ ও রবি। কিন্তু ভিত্তিমূল্যে প্রাণকে টপকে যায় রবি।
২০১৫ সালে দুই বছরের জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সরশিপ স্বত্ব পেয়েছিল মিডিয়া এজেন্সি ‘টপ অব মাইন্ড’। সে সময় ভিত্তিমূল্য ছিল এবারের ঠিক অর্ধেক-৩০ কোটি টাকা। সেবার চূড়ান্ত দরপত্রে গ্রামীণফোনকে হারিয়ে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকায় স্বত্ব পেয়েছিল ‘টপ অব মাইন্ড’। পরে তাদের কাছ থেকেই স্পন্সরশিপ স্বত্ব কিনে নিয়েছিল রবি। যদিও এবার টাকার অংকটা এখনও জানায়নি বিসিবি। তবে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রে জানা গেছে, এবার অংকটা প্রায় ৬৪ কোটি টাকা।
/আরআই/এএআর/








