শুরুটা ১৯৯৮ সালে। আইসিসি নকআউট ট্রফি নামে শুরু করা প্রতিযোগিতাটি পরবর্তী সময়ে রঙ-রূপ যোগ করে এখনকার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। জুনে উঠবে অষ্টম আসরের পর্দা। আগের সাত আসর কেমন ছিল, কার ঘরে উঠেছিল ‘মিনি বিশ্বকাপ’ খ্যাত এ প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠত্ব- ইংল্যান্ডের আসর শুরুর আগে ফিরে দেখা যাক একবার। ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর এই বিশেষ আয়োজনের ষষ্ঠ পর্বে থাকছে ২০০৯ সালের আসর-
বলতে গেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রত্যেক আসর ঝামেলা নিয়ে হাজির হয়েছে, বিশেষ করে ভেন্যুর বেলায়। এক্ষেত্রে ষষ্ঠ আসর চলে গেল সবকিছুর ঊর্ধ্বে। ভেন্যুসমস্যার কারণে নির্ধারিত ২ বছর পরপর হওয়া এ ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা শুরু হলো তিন বছর পর। অর্থাৎ ২০০৮ সালের নির্ধারিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হলো ২০০৯ সালে, যেখানে শিরোপা নিজেদের হাতে রাখতে সফল রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তন: ২০০৮ সালের ১১ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তাননে কিন্তু সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় নিরাপত্তা শঙ্কায় বেশ কয়েকটি দল পাকিস্তানে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড জোর শঙ্কা প্রকাশ করলেও আইসিসি তাতে পাত্তা দেয়নি। পাকিস্তানে টুর্নামেন্ট রাখার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। কিন্তু ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকাও জানায় নিরাপত্তা শঙ্কায় তারা যাবে না পাকিস্তানে। দুইদিন পর গুঞ্জন ওঠে টুর্নামেন্টটা অন্য কোথাও (ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা বা দক্ষিণ আফ্রিকা) হতে যাচ্ছে। এবার আর চুপ থাকতে পারেনি আইসিসি। ২০০৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় তারা।
অবশেষে পাকিস্তানের কাছ থেকে আয়োজক হওয়ার মর্যাদা কেড়ে নিতে বাধ্য হয় আইসিসি। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ সিদ্ধান্ত জানায় তারা। ওই সময় আয়োজক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিল শ্রীলঙ্কা। তবে মার্চে আইসিসি প্রধান নির্বাহীর সভায় তাদের বোর্ডকে সুপারিশ করে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম। কারণ শ্রীলঙ্কায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার শঙ্কা ছিল। বিষয়টি বিবেচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে বলে বোর্ড। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয় জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম ও সেঞ্চুরিয়ন পার্কে।
পাল্টাল নিয়মনীতি: কমে এলো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। আগের আসরগুলোয় ১০ থেকে ১২টি দল যেখানে খেলার সুযোগ পেত, সেখানে এবার আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংকে মূল ধরা হলো। কোনও বাছাইপর্ব না রেখে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল মূল পর্ব।
দুটি গ্রুপে চারটি করে দল নিয়ে শুরু হয় ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল পায় সেমিফাইনালের টিকিট। যেখানে একটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে অপর গ্রুপের রানার্সআপ খেলেছিল। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা খেলেছে ফাইনালে।
দুর্বার অস্ট্রেলিয়া: বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন (১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭) অস্ট্রেলিয়া অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটাল ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা শিরোপা জিতল হলুদ জার্সিধারীরা। ২০০৬ সালে ভারতে হাতে নেওয়া শিরোপাটি দক্ষিণ আফ্রিকাতেও রেখে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নেওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়া শুধু পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। লিগ পর্বের ওই ম্যাচ তারা জেতে ২ উইকেটে। আর পেছনে ফিরতে হয়নি পন্টিং বাহিনীকে। সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে মুখোমুখি হয় তাসমান সাগরের এপাড়-ওপাড়ের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। উড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তা পায়নি নিউজিল্যান্ড। নাথান হুরিজের (৩/৩৭) স্পিন বিষে কিউইরা মাত্র ২০০ রান করে ৯ উইকেটে।
শেন ওয়াটসনের (১০৫*) ব্যাটে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। ৬ উইকেটে জিতে রেকর্ড গড়ে শিরোপা হাতে রাখে অপরাজিত দলটি।
দলীয় সর্বোচ্চ: সবচেয়ে বড় স্কোরবোর্ড গড়তে অবদান রেখেছিল ইংল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়নে ৮ উইকেটে ৩২৩ রান করেছিল অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দল।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ: অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রিকি পন্টিং। অসি অধিনায়ক ৫ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও দুই হাফসেঞ্চুরিতে করেছিলেন ২৮৮ রান। তার ইনিংস সেরা অপরাজিত ১১১ রান এসেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পন্টিংয়ের হাতে দিতে খুব ভাবতে হয়নি।
টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল গ্রায়েম স্মিথের। সেঞ্চুরিয়নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৪ বলে ১৬ চারে ১৪১ রান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক।
সেরা বোলার: প্রতিযোগিতায় শীর্ষ উইকেটশিকারি ছিলেন ওয়েন পারনেল। দক্ষিণ আফ্রিকার এ পেসার ৩ ম্যাচে নেন ১১ উইকেট। টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং ইনিংসও ছিল তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়নে ৮ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট।
/এফএইচএম/








