নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল। ৩৩ রানেই লাল-সবুজদের নেই ৪ উইকেট। সেখানে থেকে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন। অথচ মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার ও সাকিবের বিকল্প খোঁজার কথাও ভাবা হচ্ছিল গত কিছুদিন ধরেই। অথচ অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই দেশকে আনন্দের জোয়ারে ভাসালেন কিউইদের হারিয়ে। অনেক দিন ধরে জাতীয় দলে উপেক্ষিত শাহরিয়ার নাফীস মনে করেন, সব খানেই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব দিলে এমন সফলতা প্রায় ধরা দেবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিজ্ঞতার জয় দেখে নির্বাচকরা কিংবা টিম সংশ্লিষ্ট সকলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ব্যাপারে নমনীয় হবে বিশ্বাস নাফীসের, ‘অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দলে অবদান রাখা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ভালো একটা দিক। আমাদের দেশে অভিজ্ঞতাকে কখনোই মূল্যায়ন করা হয় না। তারুণ্যকে সব সময় এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমি কখনোই তরুণদের বিপক্ষে নই। তবে অভিজ্ঞদের দিয়ে সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নেওয়া সুযোগ থাকে। আশা করব নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের পর বিষয়টি সবাই বুঝতে পারবে। ভবিষ্যতে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচকরা নতুন করে অভিজ্ঞদের নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে।’
৩৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে সেখানে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। মূলত সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর ২২৪ রানের জুটিতেই জয়ের মুখ দেখে বাংলাদেশ। এটা সম্ভব হয়েছে দুইজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকায়। নাফীস বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ভালো খেলে বলেই বাংলাদেশ সাফল্য পাচ্ছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা স্পষ্ট হয়েছে। তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। প্রত্যেকেই প্রয়োজন দলের চাহিদা পূরণ করে চলছে। তারা ভালো করছে এবং তাদের দায়িত্বগুলো ঠিকঠাকভাবে পালন করেছে বলেই আমরা আজকে সেমিফাইনালে খেলছি।’
নাফীস আশা প্রকাশ করছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ চাপমুক্ত হয়ে সেরা ক্রিকেট খেলতে পারবে, ‘আমাদের সবার প্রার্থণা এখন বাংলাদেশ যেন নির্ভয়ে সেমিফাইনালটা খেলতে পারে। এখানে বাড়তি কিছু করার কোনও প্রয়োজন নেই। আমাদের নির্ভার থেকেই সেমিফাইনাল খেলার চেষ্টা করতে হবে।’
/আরআই/এফএইচএম/








