আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন তিনি আগেই। খেলোয়াড় মাহেলা জয়াবর্ধনেকে পাওয়া গেছে অবশ্য এরপরও। ঘরোয়া ক্রিকেটের পার্ট চুকিয়ে এখন তিনি কোচের ভূমিকায়। গত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দায়িত্ব নিয়েই জিতিয়েছেন শিরোপা। এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আসছেন খুলনা টাইটানসের কোচ হিসেবে। ‘স্বল্পমেয়াদী’ এই কোচিং নিয়েই থাকতে চান শ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়ক।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন জয়াবর্ধনে। ক্রিকেট থেকে অবশ্য একেবারে বিদায় নেননি তিনি। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সঙ্গে চালিয়ে গেছেন কাউন্টি ক্রিকেট। স্কুল ক্রিকেট দিয়ে ২২ গজের মঞ্চে পা রাখা জয়াবর্ধনে ক্রিকেটের মায়া কাটাতে পারেননি খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানার পরও। দীর্ঘ পেশাদারি জীবনের পর আসলে সম্ভবও নয় সেটা। খেলা ছাড়ার পর ক্রিকেটকে আকড়ে ধরলেন তিনি কোচ হিসেবে। ২২ গজের যে পথটা তাকে এখন পৌঁছে দিয়েছে খুলনা টাইটানসে।
শ্রীলঙ্কার অন্যতম সেরা স্কুল নালন্দা দিয়ে শুরু তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের। ১৯৯৪ সালের ক্রিকেট মৌসুমে ‘সেরা স্কুলবয় ক্রিকেটার’-এ হয়েছিলেন রানারআপ। স্কুল ক্রিকেটে আলো ছড়ানো জয়াবর্ধনের ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু সিংহলিজ স্পোর্টিং ক্লাব দিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছেন সাফল্যের পথে। ১৯৯৭ সালে টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলে অভিষেক, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করা এবং ২০১৪ সালে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ট্রফি উঁচিয়ে ধরা।
কোচিংয়েও আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৫ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে শুরু করেন তার কোচিং ‘জার্নি’। ২০১৬ সালে ভারতের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি শুরুর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ইংল্যান্ডের কোচিংয়ের অংশ ছিলেন কলম্বোতে জন্ম নেওয়া সাবেক এই ব্যাটসম্যান। যেটা পরবর্তীতে তাকে নিয়ে আসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের আঙিনায়। আইপিএলের দশম আসরে রিকি পন্টিংয়ের জায়গায় মুম্বাই কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় তাকে। আর দায়িত্ব নিয়েই নিজের কোচিং প্রতিভার ঝলক দেখান জয়াবর্ধনে শিরোপা জিতিয়ে।
এই সাফল্যের পর শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার গুঞ্জনও উড়াউড়ি করেছিল বাতাসে। এমনকি অনিল কুম্বলের ছেড়ে যাওয়া ভারতের কোচের চেয়ারে তিনি বসতে যাচ্ছেন, এমন খবরও শোনা গিয়েছিল। যদিও জয়াবর্ধনের দর্শনটা একটু অন্যরকম। অবসরের পর ক্রিকেটের সঙ্গে জীবনটা তিনি উপভোগ করতে চান। তাই পূর্ণকালীন কোনও কাজ করার পক্ষে নন ৪০ বছর বয়সী সাবেক এই অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়া নিয়েই যেমনটা বলেছেন, ‘সব ভুলভাল খবর ছাপা হয়েছে। আমি মানুষজনকে সবসময়ই বলি তারা যেন রঙ লাগানো কোনও সাইটের খবর না পড়ে। তাছাড়া আমি কোনও গুঞ্জন ছড়ানো খবরের উত্তরও দেই না। কেউ আমার সঙ্গে কোচ হওয়া নিয়ে আলোচনা করেনি, সবচেয়ে বড় কথা পূর্ণকালীন কোচের চাকরি করার আমার কোনও ইচ্ছা নেই।’
২০ বছরেরও বেশি সময় ক্রিকেটকে দেওয়ার পর এখন আর লম্বা সময়ের জন্য কোনও কিছুর মধ্যে ডুবে থাকতে চান না জয়াবর্ধনে। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে স্বল্পকালীন কোচের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা তার। খুলনা টাইটানসকে বেছে নেওয়ার কারণও এটাই। দুই মাসের আইপিএলের পর ছয় সপ্তাহের বিপিএল- কোচিং ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে ছোট ছোট ধাপই নিতে চাইছেন শ্রীলঙ্কার জার্সিতে ১৪৯ টেস্ট খেলা সাবেক এই ব্যাটসম্যান। ঠিক খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুর মতো করে!
ছোট ছোট সেই ধাপগুলোই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের একজনে পরিণত করেছে মাহেলা জয়াবর্ধনে। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর এই ছোট ধাপও তাকে নিয়ে যেতে পারে বিশ্বসেরা কোচদের কাতারে। সবমিলিয়ে ‘কোচ’ জার্নিটা ভালোই চলছে জয়াবর্ধনের।
/কেআর/








