টেস্টে উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে টস জয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে পিচের স্বাভাবিক আচরণ- যত দিন গড়ায় সেটা হয়ে ওঠে স্পিন স্বর্গ। চতুর্থ ইনিংস যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিপক্ষের স্পিনারদের ঘূর্ণিতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। তাই টস জয়ী অধিনায়ক প্রত্যাশিতভাবে নেন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নামার আগে টস নিয়ে কোনও ভাবনা নেই অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই স্মিথকে টস নিয়ে শুনতে হলো প্রশ্ন। একে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন না তিনি, ‘খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় এটা। আগামীকাল সবার প্রথমে আমাদের যেটা করতে হবে, সেটা হলো ভালো শুরু। টস তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটা ফিফটি-ফিফটি।’
ঢাকায় এসে দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল স্মিথদের। কিন্তু সেটা বাতিল হয়ে যায় আবহাওয়া ও পরিত্যক্ত মাঠের কারণে। তবে কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ না হলেও আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই সফরকারী অধিনায়কের মনে, ‘বৃষ্টির মধ্যেও আমরা কিছু সেশন অনুশীলন করেছি, এটা সৌভাগ্য। প্রস্তুতি ম্যাচ হয়নি। কিন্তু এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমরা এ সপ্তাহে অনেক খেটেছি। আমরা আগামীকাল মাঠে নামতে প্রস্তুত।’
প্রস্তুতির ঘাটতি না হলেও বাংলাদেশের দুই-তিনজন বোলারকে সমীহ না করে পারছেন না স্মিথ। বিশেষ করে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানকে ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি মনে করছেন এ অধিনায়ক, ‘সাকিব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খুব ভালো বল করে। মোস্তাফিজও তাই, তার স্লোয়ার বলগুলোতে সতর্ক থাকতে হবে। বড় রান করতে চাইলে আমাদের ভালো খেলতে হবে।’
বাংলাদেশকেও ছোট করে দেখার কথা নয় স্মিথের। ঘরের মাঠে মুশফিকরা যে কতটা ভয়ঙ্কর সেটা জেনেছেন তিনি। আর উপমহাদেশে সিরিজ হারের বৃত্ত ভাঙার চ্যালেঞ্জ তার সামনে। আরেকটি শঙ্কাও আছে- যদি হেরে যায় বা ড্র করে তাহলে র্যাংকিংয়ে চার থেকে ছয়ে নেমে যাবে অস্ট্রেলিয়া। অবশ্য ব্যর্থতার ভয়ে ভীত নয় স্মিথ, ‘আমরা র্যাংকিং নিয়ে সত্যিই ভাবছি না। আমাদের প্রতিটা বল ধরে ধরে খেলতে হবে। রোমাঞ্চকর একটা সিরিজ হতে যাচ্ছে এটা। ১১ বছর আগে আমরা শেষ ম্যাচ এখানে খেলেছি। আমি সিরিজ নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত।’








