মিরপুর টেস্ট শুরুর আগেই আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়রা জানিয়েছিলেন টেস্ট সিরিজ জয়ের সম্ভাবনার কথা। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চট্টগ্রামে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মনের ভেতর থাকা জয়ের আকাঙ্খা ও বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশে জিতেছে বলে মনে করেন সাকিব ও মুশফিক।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা সাকিব বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে আমরা বিশ্বাস করি, যে কাউকে হারাতে পারি, সেটা করেও দেখিয়েছি। গত দুই বছরের পারফরম্যান্স থেকেই আমাদের মনে এই বিশ্বাস এসেছে। কেউ হয়তো আমাদের ওভাবে খেয়াল করেনি, কিন্তু আমরা চুপিসারেই নিজেদের কাজটা করেছি।’
একই সুর অধিনায়ক মুশফিকের কণ্ঠেও, ‘এমন উইকেটে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৬ রান করা খুব কঠিন। আমাদের মনে সবসময় বিশ্বাস ছিল, ওদের দুজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান যারা ক্রিজে ছিল, তাদের দ্রুত ফেরাতে পারলেই ম্যাচ আমাদের হাতে চলে আসবে। এ ধরনের উইকেটে নতুন একজন ব্যাটসম্যানের খেলা খুব কঠিন।’
শেষ দিকে প্যাট কামিন্স যখন মিরাজকে বল উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেছিল, তখনও মুশফিকের মনে বিশ্বাস ছিল ম্যাচটি তারাই জিতবেন, ‘শেষে কামিন্স যখন দুটো ছয় মারল, তখনও আমার বিশ্বাস ছিল আমরাই জিতব। আউট হতে লাগে এক বল, আর তখনও দরকার ২০ রান। সে দিক থেকে আমাদের পুরো দলের ভেতরে জয়ের বিশ্বাস ছিল।’
জেতার পর মুশফিক এই ম্যাচটিকে উল্লেখ করলেন ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে, ‘এটা তো অনেক বড় একটা অর্জন। এখন বলতে পারি এই ম্যাচটা ঐতিহাসিত ছিল। এটাকে আমি অনেক বড় অর্জন বলব। এই জয়গুলো আমাদের মতো দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলে। এই ধরনের অভিজ্ঞতা সবসময়ই কাজে লাগে। আবার যখন এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়ব, তখন আরও ভালোভাবে সামলাতে পারব।’
ঢাকা টেস্টে শুরুর আগেই সাকিব-তামিমরা মিলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা দেখছিলেন। তাতে খুব একটা খুশি হয়নি স্মিথ। একটু উপহাস করেই যেন বলেছিলেন তিনি, ‘১০০ টেস্টে মাত্র ৯টি জয়। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।’ যদিও মুশফিক এটাকে ঘোষণা দিয়ে জয় হিসেবে দেখতে নারাজ, ‘আসলে এটা তো ঘোষণা না, আমরা বলেছি সম্ভব। এটা তো অসম্ভবের কিছু না। এটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নয়, যে কোনও দলের বিপক্ষেই সম্ভব।’
আর সাকিবের বক্তব্যটা এমন, ‘আসলে এটা কোনও মেসেজ ছিল না। আমি বলেছি দুই টেস্টে জেতা সম্ভব। এখন আমরা এগিয়ে গেছি।’








