দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স একদমই ভালো নয়, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আগের দুটি সফরের চারটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার মেনেছিল টাইগাররা। তবে এখন বাংলাদেশ বদলে যাওয়া এক দল। ঘরের মাঠে যেমন সাফল্য পাচ্ছে, তেমনি বিদেশেও ভালো খেলছে আগের চেয়ে। কয়েক বছরের ধারাবাহিক সাফল্যই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে মুশফিকুর রহিমকে।
বৃহস্পতিবার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। বুধবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক বলেছেন, ‘গত দুই বছরে আমরা টেস্টে অনেক বড় বড় উদাহরণ তৈরি করেছি। অনেকে বলতে পারেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে ওদের হারানো অসম্ভব ব্যাপার। তবে আমার কাছে তা মনে হয় না। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে আমাদের পক্ষে বিশ্বের যে কোনও দলকে হারানো সম্ভব। আমরা আগে কখনও দেশের মাটিতেও অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডকে হারাতে পারিনি। কিন্তু গত কিছু দিনে আমরা এটা করে দেখিয়েছি। অবশ্যই জয় সম্ভব। ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকলে ভালো একটা টেস্ট ম্যাচ উপহার দিতে পারবো।’
সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতির কারণে সেরা একাদশ নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। প্রথম টেস্টের একাদশ সম্পর্কে মুশফিকের বক্তব্য, ‘প্রতিপক্ষ আর কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে আমরা সেরা কম্বিনেশনের চেষ্টা করি। সাকিব না থাকা মানে অতিরিক্ত একজনকে খেলাতে হবে। আমরা বাড়তি ব্যাটসম্যান, পেসার বা স্পিনার খেলাতে পারি। সব দিকই বিবেচনা করা হচ্ছে।’
প্রস্তুতি ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধের ইনজুরিতে পড়া সৌম্য সরকার খেলবেন কিনা, তা নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারেননি মুশফিক, ‘সৌম্যর একটু সমস্যা আছে। আশা করি, খেলার শুরু হওয়ার আগে সে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে। সৌম্য ফিট থাকলে আপনারা ভিন্ন একটা কম্বিনেশন দেখতে পাবেন। শুধু একটা কথাই বলতে পারি, কন্ডিশন আর উইকেট বিবেচনায় তিনজন পেসার খেলার সম্ভাবনা বেশি।’
সেনওয়েস পার্কের উইকেটে দেখে দারুণ খুশি মুশফিক। তার বিশ্বাস, উইকেটটা ব্যাটিং সহায়ক হবে, ‘দেখে মনে হলো উইকেট একটু বেশি শুকনা। মনে হয় না তেমন মুভমেন্ট পাওয়া যাবে। আমার তো মনে হয়, খুব ভালো ব্যাটিং উইকেট হবে। তৃতীয় দিন থেকে হয়তো স্পিনাররা সহায়তা পাবে, যা আমাদের জন্য ভালো খবর।’
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো ফল পেতে হলে পেসারদের জ্বলে ওঠা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘এখানে পেস বোলারদের একটা বড় ভূমিকা রাখতে হবে। যে সব দলের পেস বোলাররা ভালো করে, দেশের বাইরে তাদের পারফরম্যান্সও ভালো হয়। আমাদের পেসাররা লাইন-লেন্থ ধরে রেখে বল করতে পারলে ভালো করার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।’
বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরসূচি
সেপ্টেম্বর ২৮-অক্টোবর ২: প্রথম টেস্ট, পচেফস্ট্রুম
অক্টোবর ৬-১০: দ্বিতীয় টেস্ট, ব্লুমফন্টেইন
অক্টোবর ১২: প্রস্তুতি ম্যাচ, ব্লুমফন্টেইন
অক্টোবর ১৫: প্রথম ওয়ানডে, কিম্বার্লি
অক্টোবর ১৮: দ্বিতীয় ওয়ানডে, পার্ল
অক্টোবর ২২: তৃতীয় ওয়ানডে, ইস্ট লন্ডন
অক্টোবর ২৬: প্রথম টি-টোয়েন্টি, ব্লুমফন্টেইন
অক্টোবর ২৯: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, পচেফস্ট্রুম








