দক্ষিণ আফ্রিকায় আগের চার টেস্টেই ইনিংসে হেরেছিল বাংলাদেশ। ৯ বছর পর আবারও সেখানে খেলছে তারা। কিন্তু এবার নিশ্চিত হলো, অন্তত ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জার পুনরাবৃত্তি হবে না। কারণ ফলোঅন এড়িয়েছে মুশফিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল ৩ উইকেটে ৪৯৬ রানে। ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৯৪ রান। শুরুতে বিপদে পড়লেও শনিবার তৃতীয় দিন মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় ইনিংস খেলা নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা। তবে এরপর বিপদে পড়েছে তারা, ১৩ রানের ব্যবধানে নেই তাদের ৩ উইকেট। দ্বিতীয় সেশন শেষে ৮ উইকেটে তাদের স্কোর ৩০৮ রান। এখনও ১৮৮ রানে এগিয়ে প্রোটিয়ারা।
৩ উইকেটে ১২৭ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে তারা হারায় তামিম ইকবালের উইকেট। দিনের শুরু থেকে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। বেশ কয়েকবার এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি ৩৯ রান করে। অ্যান্ডিল ফেলুকোয়াইয়োর বলে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্ল্যাভসবন্দি হয়ে বিপদ বাড়িয়ে যান বাংলাদেশের। তারপর মুমিনুলের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে সফরকারীরা। মুমিনুল ৭৭ রানে আউট হন, সাব্বিরও ফিফটির আভাস দিয়ে পারেননি সফল হতে। তবে দুজনের সঙ্গেই দুটি অর্ধশতাধিক রানের জুটিতে স্বস্তি ফেরান মাহমুদউল্লাহ।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক শততম টেস্ট জয়ে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। দলের কম্বিনেশনের জন্য ছিটকে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশি অলরাউন্ডারকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও তাকে রাখেননি বাংলাদেশের নির্বাচকরা। ফিরলেন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। প্রত্যাবর্তনটা হলো দারুণ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি করেছেন ৩১ বছর বয়সী তারকা।
শনিবার পচেফস্ট্রুম টেস্টের তৃতীয় দিন ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মুমিনুল হকের সঙ্গে ৬৯ রানের ধীর জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। এরপর সাব্বিরকে নিয়ে আরেকটা অর্ধশতাধিক রানের জুটি গড়েন তিনি। করেছেন ১০৭ বলে ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফসেঞ্চুরি। ৭৭তম ওভারের চতুর্থ বলে কাগিসো রাবাদাকে চার মেরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পেলেন মাহমুদউল্লাহ।
অবশ্য সাব্বির তার সঙ্গে জুটি খুব বড় করতে পারেননি। ডুয়েন্নে অলিভিয়েরের বলে বোল্ড হন সাব্বির। ৬৫ রানের জুটি ভাঙে তিনি ৩০ রানে আউট হলে। কিছুক্ষণ পরই মাহমুদউল্লাহকে ফিরতে হয় মর্নে মরকেলের কাছে বোল্ড হয়ে। ১২৪ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ে ৬৬ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
নিজের দ্বিতীয় বলেই রানআউট হন তাসকিন আহমেদ। মাত্র ১ রান করেন তিনি। ক্রিজে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আছেন শফিউল ইসলাম।








