বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। অন্তত গত কয়েক বছরে প্রতিপক্ষকে ছেড়ে কথা বলেনি তারা। হারলেও তারা কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এ সময়ে। কিন্তু পচেফস্ট্রুম টেস্ট যেন ফিরে নিয়ে গেল অতীতের লজ্জাজনক অধ্যায়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে অলআউট হয়েছে তারা, হেরেছে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। ১০০’র নিচে অলআউট হওয়ার লজ্জা ভুলেই গিয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু ফিরে এলো ১০ বছর পর। এমন হারের পর তাই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো মুশফিকুর রহিমকে।
পচেফস্ট্রুমে টস জেতার পর প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন? এ প্রশ্ন ঘুরছিল পুরো ম্যাচজুড়ে। মুশফিকের দাবি, কন্ডিশন সম্পর্কে ধারনা না থাকায় এ সিদ্ধান্ত। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রায় ৫০০ রান দেওয়ার পেছনে বোলারদের দায়ী করেছেন সফরকারী অধিনায়ক, ‘আমাদের সবাই এই সিদ্ধান্ত (প্রথমে বল) নিয়েছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেট সম্পর্কে আমরা খুব বেশি জানি না, তাই কী হবে সেটা জানা কঠিন ছিল। আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উইকেটে অনুশীলন করেছিলাম। যে কোনও ফ্লাট উইকেট প্রথম দুই ঘণ্টা বোলারদের সহায়তা দেয়।’
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার যথেষ্ট সময় পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। দলের স্কোর অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ রান না হওয়ার আক্ষেপ মুশফিকের, ‘আমরা ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো সময় পেয়েছিলাম, কিন্তু ৪০০ থেকে ৫০০ রান করতে পারিনি। তাই আমরা প্রথমে ব্যাট করলেই যে ৫০০ রান করতে পারতাম তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু হ্যা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, আরও রান হতে পারতো।’
মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলামের পেস বিভাগ সুবিধা করতে পারেনি প্রথম টেস্টে। মুশফিকের আফসোস, উইকেট না পেলেও অন্তত রানের লাগাম টেনে ধরে রাখা উচিত ছিল ফাস্ট বোলারদের। প্রথম দুই উইকেট তারা পেয়েছে ১০০ ওভারের বেশি বল করে। অধিনায়কের সমালোচনার তির তাই ছুটলো ফাস্ট বোলারদের দিকেও, ‘অনেকে বলছে আমাদের উচিত ছিল ফ্লাট উইকেটে প্রথমে ব্যাট করা, কিন্তু আমাদের বোলাররা ফ্লাট উইকেটে বল করতে পারবে না এটা বিশ্বাসই হয়নি। উইকেট না পেলেও অন্তত তারা সঠিক লাইন-লেন্থে বল করতে পারতো। প্রথম ইনিংসে বোলাররা আমাকে হতাশ করেছে। উইকেট না পেলে অন্তত রানের লাগাম ধরে রাখলে দল সুবিধা পায়।’








