ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে জিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু করেছিল সিলেট সিক্সার্স। নবাগত এ ফ্র্যাঞ্চাইজি টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলো ৪ উইকেটে। রবিবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে ৬ উইকেটে ১৪৫ রানে আটকে দেয় তারা। এরপর শেষ দুই ওভারের শেষ ও প্রথম বলে টানা দুই উইকেট হারিয়ে শঙ্কায় পড়েছিল সিলেট। তবে ১ বল বাকি থাকতে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে তারা। ১৯.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান করে নাসির হোসেনের দল।
প্রথম ম্যাচের মতো কুমিল্লার বিপক্ষেও শক্ত জুটি গড়েন উপুল থারাঙ্গা ও আন্দ্রে ফ্লেচার। ২৯ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৩৬ রানে ফ্লেচার আউট হলে ভাঙে ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। সিলেটের আইকন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান এদিনও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে, ৩ রান করেন তিনি। তবে থারাঙ্গা শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে বিদায় নেন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করেন শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটসম্যান। ৪০ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৫১ রান করে রান আউট থারাঙ্গা। দলকে ১০২ রানে রেখে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
নাসির অধিনায়কোচিত কোনও ইনিংস খেলতে পারেননি। ২০ বলে ১৮ রান করেন তিনি। তবে থারাঙ্গা-ফ্লেচারের জুটি সিলেটকে যে পথে রেখেছিল, সেখান থেকে ছিটকে যায়নি দল। যদিও এক ওভার বাকি থাকতে রস হোয়াইটলেকে (১০) রান আউট করে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় কুমিল্লা। শেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন ছিল সিলেটের। কিন্তু ডোয়াইন ব্রাভোর প্রথম বলে শুভাগত হোম (৭) বোল্ড হলে কুমিল্লার চোখেও জয়ের স্বপ্ন ভর করে। তবে মাঠে নেমে প্রথম বলেই ছয় মেরে সব শঙ্কা দূর করে দেন নুরুল হাসান। ১ বল বাকি থাকতে তার চারে সিলেট পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। ৩ বলে একটি করে চার ও ছয় মেরে ১১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ম্যাচসেরা নুরুল।
কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ব্রাভো।
এর আগে টস জিতে কুমিল্লাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সিলেট। ইনজুরিতে থাকায় কুমিল্লা একাদশে ছিলেন না তামিম। তাই ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। শুরুটা দুর্দান্ত করেন এই দুজন। তবে পঞ্চম ওভারে সিলেট অধিনায়ক নাসির হোসেন বল করতে এলে তাদের হোঁচটের শুরু। দলের ৩৬ থেকে ৪৪ রানের মধ্যে ইমরুল (১২), লিটন দাস (২১) ও জশ বাটলার (২) আউট হন।
ওই ধাক্কা কাটিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অলক কাপালি ও মারলন স্যামুয়েলস। ৪২ রানের জুটি গড়েন তারা। ১৯ বলে ২৬ রানে আউট হন কাপালি। স্যামুয়েলস অবশ্য ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন ঠিকই। তিনি ৪৭ বলে বিদায় নিয়েছেন ৬০ রানের সেরা ইনিংস খেলে, তাতে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছয়। শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হন ক্যারিবিয়ান তারকা।
সিলেটের পক্ষে ক্রিসমার সান্তোকি ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে পান লিয়াম প্লাঙ্কেট ও নাসির।








