প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করা ঢাকা ডায়নামাইটস রবিবার বিপিএল পঞ্চম আসরের সর্বাধিক রান করলো। তাদের দেওয়া ২০৩ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে স্বস্তিতে নেই খুলনা টাইটানস। ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের স্পিন ও আবু হায়দারের পেসে ৬২ রান করতেই ৪ উইকেট হারায় তারা। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না খুলনা। এরপর হারিয়েছে আরও তিনটি উইকেট। ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৭ রান করেছে গত আসরে চমক দেখানো দলটি।
দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারায় খুলনা। নাজমুল হোসেনকে ৫ রানে কিয়েরন পোলার্ডের ক্যাচ বানান আবু হায়দার। পরের ওভারে সাকিব শূন্য রানে ফেরান কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে। খুলনাকে কিছুটা স্বস্তিতে ফেরাচ্ছিলেন চ্যাডউইক ওয়ালটন। কিন্তু তাকেও নিজের দ্বিতীয় ওভারে আউট করেন সাকিব। ১৩ বলে ৩০ রান করে উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারার ক্যাচ হন ওয়ালটন। ক্রিজে নেমে মাহমুদউল্লাহ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ বলে ৪ রান করে হায়দারের দ্বিতীয় শিকার হন খুলনার অধিনায়ক। সুবিধা করতে পারেননি রাইলি রোসো, মোহাম্মদ শহীদের বলে তার স্টাম্প ভেঙে যায়। ১৪ বলে ২৩ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ ব্যাটসম্যান। টানা তৃতীয় ওভারে খুলনার আরেকটি উইকেটের পতন হয়, যেটা ছিল দলের ষষ্ঠ। আরিফুল হককে (৫) বোল্ড করেন খালেদ আহমেদ। এই ডানহাতি পেসার তার পরের ওভারে আকিলা ধনঞ্জয়াকে ৭ রানে সাঙ্গাকারার ক্যাচ বানান।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ঢাকার বিপক্ষে চতুর্থ ওভারে সফলতা পায় খুলনা। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে এভিন লুইস ও ক্যামেরন দেলপোর্টের জুটি শক্ত প্রতিরোধ গড়েছিল ঢাকা। শেষ পর্যন্ত শতাধিক রানের এ জুটি ভাঙার পর প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে খুলনা। ১১ রানের ব্যবধানে ঢাকার ৪ উইকেট তুলে নেয় তারা। তবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা ঠিকই ২০০’র উপর স্কোর করে। ৭ উইকেটে ২০২ রান করে ঢাকা।
চতুর্থ ওভারের শেষ বলে শফিউল ইসলাম ফেরান সাঙ্গাকারাকে (২০)। শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং গ্রেট ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক চ্যাডউইক ওয়ালটনের হাতে। এভিন লুইসের সঙ্গে তার জুটি ৩৮ রানের। তবে লুইস-দেলপোর্ট দুজনেই হাফসেঞ্চুরি করে ঢাকাকে বড় সংগ্রহের পথে নেন। অবশেষে শফিউল তার তৃতীয় ওভারের শেষ বলে লুইসকে আউট করেন ৬৬ রানে। ৪০ বলে ৭ চার ও ৩ ছয় মেরেছেন এই ওপেনার। দেলপোর্টের সঙ্গে তার জুটি ছিল ১১৬ রানের।
এক ওভার বিরতি দিয়ে দেলপোর্টকে এলবিডাব্লিউ করেন আবু জায়েদ। ৩১ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছয়ে ৬৪ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। পরের ওভারে বাজে শট খেলে পয়েন্টে শফিউলের ক্যাচ হন সাকিব। মাত্র ৪ বল খেলে ১ রানে ব্র্যাথওয়েটের শিকার হন তিনি। ৬ বল পর জোফরা আর্চারের কাছে উইকেট হারান পোলার্ড। ৮ বলে ৫ রান করে মোশাররফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান।
দুটি ছয় মেরে গ্যালারি মাতানো সুনীল নারিন লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। ১১ বলে ১৬ রানে তিনি আউট হন জায়েদের বলে। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের ক্যাচ নেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দুই বল বাকি থাকতে রান আউট হন জহুরুল ইসলাম (৩)।
খুলনার একাদশ
চ্যাডউইক ওয়ালটন, রাইলি রোসো, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, জোফরা আর্চার, আরিফুল হক, আকিলা ধনঞ্জয়া, মোশাররফ হোসেন, আবু জায়েদ ও শফিউল ইসলাম।








