অনুশীলন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নেটে গেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিছুক্ষণ নেট করার পর এগিয়ে গেলেন কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে। শিষ্যকে কী যেন বললেন। শান্ত মনোযোগ দিয়ে কোচের কথা শুনলেন। কোচ গিয়ে দাঁড়ালেন শান্তর ঠিক পেছনে। কয়েকটা বল পর্যবেক্ষণ করে সন্তুষ্ট মনে ফিরে গেলেন অন্য কাজে।
চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের নেটে ব্যাটিং শেষ করে শান্ত বললেন, “কোচ আমাকে বলেছেন, ‘তোমার ব্যাটিং ভালো হচ্ছে। তোমাকে সব ধরনের শট খেলার জন্য রেডি থাকতে হবে।’ আসলে আমাকে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন মাহেলা।’
বিপিএলে খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারছেন না শান্ত। খুলনার আটটি ম্যাচেই একাদশে ছিলেন। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। বাকি সাত ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ পেলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। পাঁচবার ওপেন করলেও একবার পাঁচ নম্বরে এবং আরেকবার সাত নম্বরে ব্যাটিং করেছেন তিনি।
ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের কারণেই কি সমস্যা হচ্ছে? এমন প্রশ্নে বাংলা ট্রিবিউনকে শান্ত বলেছেন, ‘আসলে এটা তেমন কোনও সমস্যা নয়। দল যেখানে চাইবে, আমি সেখানেই চেষ্টা করবো। কোথায় ব্যাটিং করছি সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। চাইলে সব জায়গায় ব্যাটিং করা যায়।’
সাত ম্যাচে শান্তর মোট রান ৭৬, সর্বোচ্চ ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ২৪। ব্যাটে রান নেই বলেন তিনি কিছুটা চিন্তিত। তবে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন বলে টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট প্রথম থেকেই আমাকে সুযোগ দিচ্ছে। সর্বশেষ ম্যাচে ওপেন করেছি। ব্যাটিং অর্ডারে ওঠানামা হচ্ছে ঠিকই, তবে এতে আমি অভ্যস্ত। টিম যা চাইবে, সেই অনুযায়ী আমি ব্যাটিং করবো। আমার ছয় রানও যদি দলের জয়ে কাজে লাগে, ভালো লাগবে। ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’
গতবারের মতো এবারও খুলনার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছেন না। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর মতো শান্তও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত, ‘অবশ্যই এটা চিন্তার বিষয়। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, আস্তে আস্তে উন্নতিও করছি। আশা করি সামনের ম্যাচগুলোতে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো।’
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কিংবদন্তি জয়াবর্ধনেকে খুলনা টাইটানসের কোচ হিসেবে পেয়ে শান্ত উচ্ছ্বসিত, ‘মাহেলার সঙ্গে কাজ করে ভালো লাগছে। রান করি বা না করি, তিনি সব সময় ইতিবাচক কথা বলেন, ব্যাটিং টিপস দিয়ে সাহায্য করেন। ভবিষ্যতে এর সুফল অবশ্যই পাবো।’








