মালয়েশিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে অংশ নেওয়ার কারণে বিপিএলের শুরু থেকে ছিলেন না কাজী অনিক। ঢাকায় ফিরে গত ১৯ নভেম্বর যোগ দেন রাজশাহী কিংস দলে। তত দিনে ৬টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে রাজশাহী। তিন ম্যাচ অপেক্ষার পর আজই বিপিএলে সুযোগ পেলেন এই বাঁহাতি পেসার, আর অভিষেকেই অসাধারণ বোলিং! ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর জয়ের নায়ক জানালেন, অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির আগ্রহে কীভাবে সুযোগ পেলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অনিক বললেন, “নেটে আমার বোলিং পছন্দ হয়েছিল স্যামির। আমাকে কয়েকদিন থেকেই বলছিলেন, ‘সামনে হয়তো সুযোগ আসবে, তুমি তৈরি থেকো।” তবে ম্যাচ চলার সময় অধিনায়ক কিছু বলেননি তাকে, “খেলার সময় তিনি আমাকে কিছু বলেননি। খেলা শেষে শুধু বলেছেন, ‘আজ তোমার ভালো বলগুলো করেছো, এটা দারুণ ব্যাপার। পরের ম্যাচে সুযোগ পেলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।” অনিককে ম্যাচ জেতানো বলটা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন স্যামি, ‘তিনি বলেছেন, বলটা আমাকে দেবেন। এখনও অবশ্য হাতে পাইনি, রাতে হোটেলের রুমে গিয়ে হয়তো অটোগ্রাফ সহ পাবো।’
অভিষেকে সাফল্য পেলেও শুরুতে কিছুটা স্নায়ুর চাপে ভুগছিলেন তিনি। ১৯ বছর বয়সী অনিক বললেন, ‘নার্ভাস থাকাই তো স্বাভাবিক, টিভিতে লাইভ ম্যাচ, এত দর্শকের সামনে খেলা। শুরুতে একটু নার্ভাস থাকলেও ধীরে ধীরে সেটা কাটিয়ে উঠেছি। আমি চিন্তা করেছি, নার্ভাস হলে চলবে না, ম্যাচে ফোকাস রাখতে হবে।’ নিজের বোলিং নিয়ে তার বিশ্লেষণ, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল যত কম সম্ভব রান দেওয়া। উইকেট ভাগ্যের ওপরে নির্ভর করে। পরিকল্পনা সফল হওয়ায় ভালো লাগছে।’
বাবা কাজী বশিরুল ইসলাম প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন, ‘তুই কবে বিপিএলে খেলবি, জাতীয় দলে খেলবি?’ উত্তর দিতে পারতেন না অনিক। রাজশাহী কিংসে সুযোগ পেয়ে বাবার স্বপ্ন আংশিক পূরণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। সংবাদ সম্মেলনে বাবার কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগাক্রান্ত তরুণ বাঁহাতি পেসার, ‘আজকের পারফরম্যান্সের পর ভালো লাগছে। আব্বার কেমন লাগছে এখানে বসে বলা মুশকিল। তবে তিনি নিশ্চয়ই অনেক খুশি হয়েছেন।’ দুই হাত ছুড়ে অদ্ভূতভাবে নেচে উইকেট উদযাপন নিয়ে অনিকের মন্তব্য, ‘এটা আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নাচ। এই নাচ আমি সব জায়গায় করি, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেলে এভাবে নেচে উঠি। হংকংয়ে খেলতে গিয়েও আমরা সবাই এভাবে নেচেছি।’
চিটাগং ভাইকিংসকে সহজে হারালেও নির্ভার নয় রাজশাহী কিংস। ১০ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে পঞ্চম স্থানে। ‘শেষ চারে ওঠা নিয়ে কী ভাবছেন’ প্রশ্নে অনিকের জবাব, ‘আজকের জয় দলকে চাঙা করবেই। জানি না, আমরা সেরা চারে যাব কিনা। বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে, আমাদের ফোকাসও সেদিকে।’








