জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যে শনিবার সকালে ঢাকায় আসছেন, তা আগেই জানা ছিল। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সারতেই তার এই আগমন। হাথুরুসিংহের আসার খবরে সকাল থেকেই রেডিসন ব্লু হোটেলে সংবাদ কর্মীরা ভিড় করতে থাকেন। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না! শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ছয়টার পর ‘দেখা’ দিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল কোচ।
হাথুরুসিংহের সঙ্গে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এবং কয়েকজন বোর্ড পরিচালক। টাইগারদের সাবেক কোচ অবশ্য কোনও কথা বলেননি। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন বোর্ড সভাপতি। হাথুরুসিংহে নাকি বিসিবি সভাপতিকে বলেছেন, ‘একজন ক্রিকেটারের চেয়ে দেশ অনেক বড়!’ তবে সেই ‘একজনে’র নাম উল্লেখ করেননি।
নাজমুল হাসান বললেন, ‘দল নিয়ে তার হতাশা নেই। তিনি বরং দলের অনেক প্রশংসা করেছেন। দলকে এগিয়ে নিতে কী কী বাধা আসতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আমাদের সঙ্গে। আসলে এমন সমস্যা সব জায়গায় থাকে। খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচের দ্বিমত থাকতে পারে, রাগ থাকতে পারে। এটা বড় কিছু নয়। তবে তিনি একটা কথা বলেছেন, যত বড় ক্রিকেটারই হোক না কেন, তার চেয়ে দেশ বড়। ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু সেজন্য দেশের ক্ষতি করা যাবে না। এই বার্তা যেন প্রত্যেক ক্রিকেটারের কাছে পৌঁছানো হয়, সে কথাও বলেছেন।’
হাথুরুসিংহের আর নাজমুল হাসানের প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান, জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অলরাউন্ডার। বিসিবি সভাপতি জানালেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট একটা পর্যায়ে এসেছে। পরের ধাপে যেতে হলে কী করা উচিত, প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে কী লাভ হবে ইত্যাদি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।’
দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধও করেছেন হাথুরুসিংহে। নাজমুল হাসানের কথা, “তিনি বলেছেন, ‘এই ক্রিকেটাররা ১০ বছর ধরে তোমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের কাছ থেকে সেরাটাই নিতে হবে।’ তার বিশ্বাস, ক্রিকেটাররা মানসিক সমস্যা কাটাতে পারলে বাংলাদেশ দল আরও এগিয়ে যাবে।”








