একসময় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে গুঞ্জন ছিল, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ‘প্রিয়পাত্র’ সৌম্য সরকার! এ নিয়ে প্রায়ই বিরক্তি প্রকাশ করতেন জাতীয় দলের বিদায়ী কোচ। সৌম্য নিজেও এ বিষয়ে বিরক্ত।
মঙ্গলবার মিরপুর ক্রিকেট একাডেমিতে সাংবাদিকদের কাছে বাঁহাতি ওপেনার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এভাবে, ‘স্কুলে ভর্তি হলেই শুধু শিক্ষকদের প্রিয়পাত্র হওয়া সম্ভব!’
‘আপনার পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো হচ্ছে না। হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর আপনার জাতীয় দলে টিকে থাকা কতটা কঠিন?’ এমন প্রশ্নে সৌম্যর সোজাসাপ্টা জবাব, ‘ভালো খেললেই শুধু দলে থাকবো। কে পছন্দ করে আর কে করে না সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। একটা ক্লাসে স্যার সবাইকে পছন্দ করবেন না। যাকে পছন্দ করবেন না, সে পেছন থেকে কিছু করতেই পারে!’ যদিও এই ‘পেছনে থাকা’ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করলেন না সৌম্য।
জাতীয় দলে সুযোগ আর টিকে থাকার লড়াই নিয়ে তার বক্তব্য, ‘ভালো না খেললে আমি টিমে (জাতীয় দল) সুযোগ পেতাম না। আমি যদি স্কুলেই ভর্তি না হই, তাহলে শিক্ষক আমাকে কীভাবে পছন্দ করবেন! ভর্তি হওয়ার জন্য আমাকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। স্কুলে (জাতীয় দল) সুযোগ পেয়ে ভালো করেছি বলেই শিক্ষক (কোচ) আমাকে পছন্দ করছেন।’
এ বছর ওয়ানডেতে (১২ ম্যাচে ২৪৩ রান) ব্যর্থ হলেও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান সৌম্যর। সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলে করেছেন ২৩৫ রান। টেস্ট ক্রিকেটে পারফরম্যান্স মোটামুটি, সাত ম্যাচে ১৪ ইনিংসে ৪৬১ রান নিয়ে দলের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।
২০১৭ সালে নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সৌম্যর মূল্যায়ন, ‘একেক জনের প্রত্যাশা একেক রকম হয়। আমি নিজের কিংবা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আগামীতে নিজের লক্ষ্যপূরণের চেষ্টা করবো।’
সৌম্য সরকার যেন এক ধাঁধার নাম! কখনও তার ব্যাটের ঝড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ, কখনও তিনি নিজেই বন্দি হয়ে যান ব্যর্থতার বৃত্তে। এবারের বিপিএলে কয়েকটি ম্যাচে ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যর্থতার কারণ হিসেবে তিনি বললেন, ‘৩০ রান করার পর আমাকে দলের কথা চিন্তা করতে হয়। ওই সময় আমি স্লো হলে দলের পজিশনও স্লো হয়ে যাবে। শুধু নিজের জন্য খেললে হয়তো এ সমস্যার সমাধান হতো। কিন্তু দলের কথা চিন্তা করে খেললে ব্যাপারটা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে আমাকে ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হবে ’








