‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’ তারা অবশ্য ‘শিশু’ নন, তবে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তো বটেই। আগামী ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ আয়োজন। আজ থাকছে বাঁহাতি ওপেনার পিনাক ঘোষের কথা।
মাত্র আট বছর বয়সে ‘বুস্ট পাওয়ার কাপ' খেলতে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় আসেন পিনাক। ওই টুর্নামেন্টে ৫১ রানের একটা দারুণ ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো ব্যাটিং করা পিনাক ২০১৪ সালে বিসিবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বিপক্ষে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ দুই সিরিজে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দরজা খুলে যায় তার সামনে।
২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন তিনি। তবে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ ভালো কাটেনি, ৫ ম্যাচে মাত্র ৭৫ রান করেছিলেন। দুই বছর আগের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে কিউইদের মাটিতে জ্বলে উঠতে আত্মবিশ্বাসী পিনাক। বিশ্বকাপে ভালো খেলে শান্ত-মিরাজদের মতো জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন তার চোখে। আরেকটি স্বপ্নও দেখেন, জাতীয় দলে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেন করতে চান তিনি।
একান্ত সাক্ষাৎকারে পিনাক ঘোষ
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাই।
পিনাক: স্বরজিৎ স্যারের কাছে ক্রিকেটের প্রথম শিক্ষা নিয়েছি আমি। এরপর ময়মনসিংহে জাকির ভাই ও পাপ্পু স্যার ছিলেন আমার কোচ। ময়মনসিংহে আমার ব্যাটিংয়ের ভালো উন্নতি হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ খেলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পাই।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কার?
পিনাক: পুরো কৃতিত্ব বাবুল স্যারের। যতটুকু শিখেছি সবই তার কাছ থেকে। উনি না থাকলে হয়তো এখানে আসতে পারতাম না। প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়ার পর মূল দলে সুযোগ পাইনি আমি। দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য বাবুল স্যার আমাকে আলাদা করে অনুশীলন করাতেন, আমার ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। পাশাপাশি তুষার স্যারও আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। এছাড়া জুয়েল স্যারের (যুব দলের ব্যাটিং কোচ আব্দুল করিম জুয়েল) কাছ থেকেও অনেক সাহায্য পেয়েছি।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি ফাস্টফুড দারুণ পছন্দ করেন। ফাস্টফুড থেকে দূরে রাখতে আপনাকে নাকি নজরদারিতে রাখা হয়?
পিনাক: ফাস্টফুড যেন না খাই, সেজন্য কোচ-ট্রেনাররা আমাকে কড়া নজরে রাখেন। তবু লুকিয়ে মাঝে মাঝে খেয়ে ফেলি! গত যুব বিশ্বকাপের আগে বেশি খেতাম, এখন অবশ্য অনেক কম খাই।
বাংলা ট্রিবিউন: শুরু থেকেই কি ব্যাটসম্যান হওয়ার লক্ষ্য ছিল?
পিনাক: হ্যাঁ, শচীন টেন্ডুলকার আর তামিম ইকবাল আমার প্রিয় ক্রিকেটার। আমার স্বপ্ন, জাতীয় দলে তামিম ভাইয়ের সঙ্গে ওপেন করা।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কেমন?
পিনাক: গত বছরের শুরুটা ভালো ছিল না। এইচএসসি পরীক্ষার কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রূপগঞ্জের হয়ে মাত্র তিনটা ম্যাচ খেলতে পেরেছিলাম। লিগে একটা ম্যাচে অবশ্য ৭১ রানের ভালো ইনিংস খেলেছিলাম। এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগের এক ম্যাচের দুই ইনিংসে করেছি ২৮ ও ৩৫ রান। আফগানিস্তান সিরিজে একটা ম্যাচে ৫৪ রান করেছিলাম। এছাড়া মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অপরাজিত ৮১ ও ৮২ রানের দুটো ভালো ইনিংস এসেছিল আমার ব্যাট থেকে।
বাংলা ট্রিবিউন: ২০১৬ সালেও যুব বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। গতবারের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে পারবেন?
পিনাক: গত বিশ্বকাপ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। গতবার খেলেছি বলে এবার আমার দায়িত্ব বেশি। দলকে ভালো সূচনা এনে দিতে চাই, কোচের নির্দেশনা ভালোমতো অনুসরণ করতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন নিয়ে আপনার কী অভিমত?
পিনাক: মাশরাফি, সৌম্য আর মোসাদ্দেক ভাই আমাদের বলেছেন, কন্ডিশন খুব বেশি কঠিন হবে না। তাছাড়া আইসিসির ইভেন্টে উইকেট সাধারণত কঠিন হয় না। আমরা তাই কন্ডিশন নিয়ে চিন্তিত নই।
বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য কী?
পিনাক: আমরা গতবার সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। এবারও লক্ষ্য অন্তত সেমিফাইনাল খেলা। তারপর দেখা যাবে। তবে আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: যুব বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির ‘ফিউচার স্টার্স’ প্রোমোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার হিসেবে আপনি আছেন। আপনার দায়িত্ব নিশ্চয়ই বেড়ে গেছে।
পিনাক: ক্রিকেট খেলা মানেই দায়িত্ব। দেশের জন্য খেলছি, তাই আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে খেলতে হবে, দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।
প্রোফাইল
নাম: পিনাক ঘোষ
ডাক নাম: পিনাক
বাবা: প্রবীর ঘোষ
মা: পলি ঘোষ
জন্ম: ২০ জানুয়ারি ১৯৯৯
জন্মস্থান: নেত্রকোনা
উচ্চতা: ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি
ব্যাটিং স্টাইল: বাঁহাতি ওপেনার
বোলিং স্টাইল: অফস্পিনার
প্রিয় শট: কাভার ড্রাইভ
প্রিয় মানুষ: মা-বাবা
প্রিয় ক্রিকেটার: শচীন টেন্ডুলকার ও তামিম ইকবাল
ক্রিকেট ছাড়া অন্য প্রিয় খেলা: বিলিয়ার্ড
প্রিয় ফুটবল তারকা: লিওনেল মেসি
প্রিয় ফুটবল দল: আর্জেন্টিনা
প্রিয় বন্ধু: রাজু ও নিঝুম
ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত: ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে একটি ম্যাচে ১৫০ রানের ইনিংস
ছবি-নাসিরুল ইসলাম








