মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিনটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ, কিন্তু কখনও শিরোপার উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে পারেনি। শনিবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আগের সব হতাশা ভুলে ট্রফি নিয়ে উৎসব করতে চান অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বললেন, ‘মিরপুরে ফাইনালে ব্যর্থতার কথা আমার মাথায় ছিল না। আপনারা মনে না করালেই পারতেন! আমি সহ দলের অনেকেই আগের তিনটি ফাইনালে খেলেছিল। তাদের সামনে কাল আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ, আর নতুনদের সামনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ।’
ফাইনাল হলেও টাইগারদের অধিনায়ক বাড়তি চাপ নিতে রাজি নন, ‘কাল সম্পূর্ণ নতুন ম্যাচ, আর এই ম্যাচে ভালো খেলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একদল জিতবে, অন্যদল হারবে। হার-জিত নিয়ে না ভেবে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামা উচিত। এমনিতেই ফাইনালে চাপ থাকে। সেটা নিয়ে না ভেবে লিগ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচ যে মানসিকতা নিয়ে খেলেছি, সেভাবে খেলতে হবে আমাদের।’
বাংলাদেশ ফাইনালে জিততে যে কতটা মরিয়া, মাশরাফির পরের কথায় তা পরিষ্কার, ‘আমরা ফাইনালে জিততে উদগ্রীব। কাল সাফল্য পেলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবো। সব কিছু নির্ভর করছে ভালো শুরুর ওপরে। পুরো ম্যাচে যারা স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে।’
ফাইনালের দুই দিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানে অলআউট হয়ে ১০ উইকেটে হারের প্রসঙ্গও উঠলো সংবাদ সম্মেলনে। মাশরাফি জানালেন, বৃহস্পতিবারের ‘লজ্জা’ ভুলে গেছেন তারা, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাজে দিনটির কথা মনে রাখবো না। আমরা প্রতিদিন ৭০-৮০ রানে অলআউট হলে তো আমাদের সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। আমরা চেষ্টা করছি সব ভুল শুধরে মাঠে নামার। কাল সামর্থ্যের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করবে আমাদের দল।’
ফাইনালে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার প্রতিজ্ঞা তার কণ্ঠে, ‘ওরা কাল (বৃহস্পতিবার) আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেললেও আমরা তেমন খেলতে পারিনি। ফাইনালে শ্রীলঙ্কা হয়তো আরও আক্রমণাত্মক খেলবে। তবে আমরাও পাল্টা আক্রমণ করতে প্রস্তুত। আশা করি, কাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে মিরপুরে শিরোপা-খরা দূর করতে পারবো।’








