স্বপ্ন দেখতেন একদিন বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন। সত্যি হতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন, বুধবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। যদিও অধিনায়কত্বটা এভাবে চাননি তিনি।
মুশফিকুর রহিমের পর দশম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের খাতায় নাম লেখাবেন মাহমুদউল্লাহ। স্বপ্ন পূরণের এত কাছাকাছি থেকেও কিছুটা হতাশ তিনি। কেন এই হতাশা? শুনুন মাহমুদউল্লাহর মুখ থেকেই, ‘যেভাবে অধিনায়কত্ব পেয়েছি, সেভাবে চাইনি। সাকিব আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ওকে হারানোটা দলের জন্য বিরাট ক্ষতি।’
যদিও সাকিবের অভাব ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তার মুখে, ‘তারপরও আমাদের পরিস্থিতিটা অতিক্রম করতে হবে। আমাকে দেওয়া দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে চাই। সব মিলিয়ে যদি বলেন, আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে তার দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার। সেখান থেকে চিন্তা করলে আমার ভালো লাগা অন্য কোনও কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।’
সাকিবের ইনজুরিতে পাওয়া এই দায়িত্বটা আস্থার সঙ্গে পালন করতে চান মাহমুদউল্লাহ, ‘ক্রিকেটারদের জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের এই সিরিজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখানে ভালো কিছু করতে চাই।’
টেস্ট ক্রিকেটের প্রতিটি সেশনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় অধিনায়ককে। সেই চ্যালেঞ্জগুলো দলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে উতরাতে পারবেন বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ, ‘দলের সবাই পারফর্ম করলে অধিনায়কের চাপ কমে যায়। দলে কম-বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে। এর পাশাপাশি জুনিয়র ক্রিকেটাররা পারফর্ম করলে আমাদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি অনেক দিন থেকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক হিসেবে নিজের ‘ঠাণ্ডা মেজাজের’ পরিচয় ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কের মিশনে নামার আগে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমি যখন দায়িত্বে থাকব, তখন কোনও কিছুতেই ছাড় দেব না। যেভাবেই হোক দলকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব, সেটা কঠোর আচরণ কিংবা অনুপ্রেরণা দিয়ে হলেও। মূল কথা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালো কিছু দিতে হবে। এটাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার সবচেয়ে বড় নেতৃত্ব গুণ কী? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘অধিনায়কের বড় একটি কাজ হলো মাঠের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যা ঠাণ্ডা মাথায় থাকলে নেওয়া সহজ হয়, আমি এটা বিশ্বাস করি। আমি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটেও অধিনায়কত্ব করি, যতক্ষণ পারি ঠাণ্ডা থাকার চেষ্টা করি। আমার সবসময় চেষ্টা থাকবে খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা দেওয়া।’








