২০০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ধারাটা সচল রাখতে পারলো না। ইমরুল কায়েসের বিদায়ে হারিয়েছে তারা প্রথম উইকেট, স্কোর ১ উইকেটে ৬০ রান।
চা বিরতির পর নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে রঙ্গনা হেরাথ আউট হলে ইনিংস ঘোষণার ইঙ্গিত দেন চান্ডিমাল। তৃতীয় সেশনের শুরুতেই অবশ্য উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাইজুল ইসলামের আঘাতে ফিরে যান সুরঙ্গা লাকমাল। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি ৯ রান করে। হেরাথের উইকেটটিও তাইজুলের। এলবিডাব্লিউ করে লঙ্কান ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে তাইজুল পান চতুর্থ উইকেট। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৬৭.৩ ওভার বল করে ৪ উইকেট পেতে এই স্পিনার খরচ করেছেন ২১৯ রান।
এমন অভিষেক নিশ্চিতভাবেই চাননি সানজামুল ইসলাম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেটের জন্য এই স্পিনারকে অপেক্ষা করতে হলো ৪২ ওভার! চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনের শেষ ভাগে এসে পেয়েছেন তিনি উইকেটের দেখা। চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়েই অভিষেক হওয়া সানজামুলের প্রথম শিকার দিলরুয়ান পেরেরা। এই স্পিনারের বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ার আগে লঙ্কান ব্যাটসম্যান করেছেন ৩২ রান।
লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরেই উইকেট উৎসব বাংলাদেশের। দিনেশ চান্ডিমালকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ পায় পঞ্চম উইকেট। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন তিনি। লঙ্কান অধিনায়ক লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিলেন ৮৭ রান নিয়ে। যদিও দ্বিতীয় সেশনে আর কোনও রানই যোগ করতে পারেননি তিনি। লাঞ্চ বিরতির পর তৃতীয় বলে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন তাইজুল ইসলামের বলে। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন চান্ডিমাল ৮৭ রান করে।
চান্ডিমালের আউটের পর জ্বলে ওঠেন আবার ডিকবেলা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা এই ব্যাটসম্যান তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফসেঞ্চুরি। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি, মিরাজের শিকার হয়ে ফিরেছেন ৬২ রানে। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল তার ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্ল্যাভসে।
আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভা ও দিনেশ চান্ডিমাল শ্রীলঙ্কার রান বাড়িয়ে নিতে নেমেছিলেন ব্যাটিংয়ে। দিনের শুরুতে সেঞ্চুরির দেখাও পেয়ে যান রোশেন। আগের দিনের ৮৭ রান নিয়ে দিন শুরু করে পেয়ে যান টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শতক পূরণ করে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি, আউট হয়ে গেছেন ১০৯ রান করে। মিরাজের বলে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্ল্যাভসে।
চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি উইকেট। সেঞ্চুরিয়ান রোশেন সিলভাকে ফিরিয়ে উৎসব করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা লাঞ্চ বিরতির আগে। দিনেশ চান্ডিমালের চমৎকার ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে সুবিধাজনক জায়গায় ছিল সফরকারীরা। লঙ্কান অধিনায়ক ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে গিয়েছিলেন লাঞ্চ বিরতিতে, তার সঙ্গে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন নিরোশান ডিকবেলা।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের চেয়ে ৯ রানে পিছিয়ে ছিল শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ দিনের সকালে এই রান টপকে প্রথম ইনিংসে লিড নেয় সফরকারীরা। তৃতীয় দিন শেষে লঙ্কানদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৫০৪ রান। প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করেছিল ৫১৩ রান।








