এখন কী বলবেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে? মুমিনুল এখনও শর্ট বল কিংবা অফ স্পিনে দুর্বল? হাথুরুসিংহের শিষ্যরা কিন্তু শর্ট বল করেও মুমিনুলকে থামাতে পারেননি। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করে তিনি এখন ইতিহাসের পাতায়। সাবেক কোচকে মোক্ষম জবাব দিয়েও মুমিনুল সংবাদ সম্মেলনে নির্বিকার।
হাথুরুসিংহে প্রায় সাড়ে তিন বছর কোচ ছিলেন বাংলাদেশের। এই সময়ে ভালোই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল মুমিনুলকে। গত বছর অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল থেকে বাদও পড়েছিলেন তিনি। এনিয়ে অনেক হৈচৈয়ের পর তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ ছেড়ে শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে প্রথম মুখোমুখি হলেন ‘পকেট ডায়নামো’। আর শুরুতেই বাজিমাত। ১৭৬ আর ১০৫ রানের দুটো দুর্দান্ত ইনিংসের সৌজন্যে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে মুমিনুল বললেন, ‘আমার জীবনে ওই গ্যাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আপনাদের ভাবনা জানি না, তবে আমার মনে হয় এটা আমার জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে। ওই সময়ে আমার মানসিকতার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।’
১৭৬ রানের ইনিংসের প্রতিটি পরতে ছিল অভিমান। সেঞ্চুরির পর মুমিনুলের বাতাসে ভাসানো ঘুষিতেই তার আভাস। চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে তার অনেক প্রাপ্তি। বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম দুই হাজার রান আর দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির (৯৬ বলে) পাশাপাশি জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি তো আছেই। অথচ হাথুরুসিংহের ‘আমলে’ কী কঠিন সময়ই না পার করেছিলেন তিনি! শ্রীলঙ্কান কোচ বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তার গড় ছিল ৭৫-এর ওপরে। তবে গত তিন বছরে তা নেমে আসে ৪৩.৮০-এ। এই সময়ে তিনি পেয়েছেন মাত্র একটি সেঞ্চুরি।
‘হাথুরুসিংহের বিদায়ে আপনি কি অনেকটা ভারমুক্ত?’ সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে মুমিনুল যেন দার্শনিক, ‘এমন কথা মনেই আনছি না। কোনও খেলোয়াড়ের পক্ষে আগে পরিকল্পনা করে কিছু করা সম্ভব নয়। আসলে মানসিকভাবে আমি আগের চেয়ে অনেক শক্ত।’ সাবেক কোচকে জবাব দেওয়ার প্রশ্ন শুনে হাসলেন মুমিনুল, ‘জবাব দেওয়ার কিছু নেই। আসলে আপনার প্রশ্নের উত্তরই আমার কাছে নেই।’ নিজেই জানালেন, চট্টগ্রামে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তার কাছে বেশি দামি, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে রান করা দরকার ছিল। আমি তাই দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিটা এগিয়ে রাখবো। কারণ ওটা ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস ছিল।’








