ব্যাট হাতে খেললেন ঝড়ো ৬৭ রানের ইনিংস, এরপর বোলিংয়ে ৪৯ রানে ৪ উইকেট- মাশরাফি বিন মুর্তজার অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে আবাহনীও পেয়েছে দারুণ জয়। শুক্রবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে কলাবাগানকে ৩৬ রানে হারিয়েছে আবাহনী।
আসল কাজটা তার বোলিংয়ে। তবে ঘরোয়া লিগে মাঝেমধ্যেই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন মাশরাফি। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে সেই ঝলকটা বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক দেখালেন আরেকবার। তার ৫৪ বলে ৬৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই আবাহনী ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে স্কোরে জমা করে ২১৭ রান। এরপর বোলিংয়ে মাশরাফির সঙ্গে তাসকিন আহমেদ (৩/৩০) জ্বলে উঠলে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ৪৮.১ ওভারেই গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আবাহনীর শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না। দলীয় ৪ রানেই হারায় ওপেনার সাইফ হাসানকে (০)। খানিক পর আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়ও (১৭) ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক নাসির হোসেন (১২) ও মোহাম্মদ মিঠুন (৩)। তবে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন।
ঢাকা টেস্টের স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে না থাকায় টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ছেড়ে দিয়েছিল প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। ব্যাট হাতে নিজেকে ভালোই প্রমাণ করলেন এই ব্যাটসম্যান। রান আউট হওয়ার খেলে যান ৪০ রানের কার্যকরী ইনিংস। তার আগে নাজমুল পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। মুক্তার আলীর বলে থামার আগে ৮৩ বলে খেলে যান ৫৫ রানের ইনিংস।
প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় একটা সময় ১০৫ রান তুলতেই আবাহনী হারায় ৬ উইকেট। সেখান থেকে দলীয় রান ২০০ পার হওয়ার পেছনে পুরো কৃতিত্বই মাশরাফির। লোয়ার অর্ডারে নেমে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। ৫৪ বলে ৬৭ রানের ইনিংস মাশরাফি সাজিয়েছেন ৩ চার ও ৫ ছক্কায়।
ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও ঝড় তোলেন এই পেসার। তার বোলিং তোপে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় কলাবাগান। মাশরাফির জোড়া আঘাতে ফিরে যান ওপেনার জসিমউদ্দিন (৪) ও যতীন সাক্সেনা (৯)। এরপর তার সঙ্গে উইকেট উৎসবে যোগ দেন তাসকিন। এই পেসারের শিকার হয়ে ১৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তাসামুল হক।
ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি মোহাম্মদ আশরাফুল। ২৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাকলাইন সজীবের বলে। তাইবুর রহমান করেন ২৬ রান, আর মাহমুদুল হাসানের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন মুক্তার আলী।
শুরুর পর শেষটাও রাঙিয়ে নেন মাশরাফি। সঞ্জীত সাহার (৭) পর শাহাদত হোসনকে (০) আউট করে পান চতুর্থ উইকেটের দেখা। মাশরাফির ব্যাট-বলে এমন পারফরম্যান্সের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকে না।








