আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ পরাস্ত। মিরপুর টেস্টে ৩৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে নামা টাইগারদের দায়িত্বহীন ব্যাটিং যেন পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে সবাইকে। অনেকেরই প্রশ্ন, বাংলাদেশ কি উল্টো পথে হাঁটা শুরু করলো?
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ক্রমাগত ব্যর্থতার কারণে ‘বাংলাদেশকে কেন টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়া হলো?’ এমন প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট বিশ্বে। তবে গত কয়েক বছরে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও সাফল্য আসছিল। কলম্বোতে শততম টেস্ট আর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মিরপুর টেস্ট রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দিয়েছে টাইগারদের।
চট্টগ্রাম টেস্টে কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক ড্র এনে দিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। তাই ব্যাটসম্যানদের ওপরে আস্থা বেড়ে যায় টিম ম্যানেজমেন্টের, মিরপুরে তৈরি হয় স্পিনিং উইকেট। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহর সরল স্বীকারোক্তি, ‘চট্টগ্রামে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের জন্যই ঢাকায় স্পিনিং উইকেট বানানো হয়েছিল।’
উইকেট কঠিন হলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটসম্যানদের লড়াই করতে হবে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভীষণ ‘উদার’ অবশ্য, বলতে গেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। যদিও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সাফাই গাইলেন ব্যাটসম্যানদের পক্ষে। রান করতে হলে ইতিবাচক থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে হবে, নয়তো রান করা সম্ভব নয়—এমন যুক্তি তার।
অথচ একই উইকেটে রোশেন সিলভা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ক্রিজে কাটিয়ে ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসেও করেছিলেন ৫৬ রান। অথচ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। মাহমুদউল্লাহ যতই ইতিবাচক মানসিকতা কিংবা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার কথা বলুন, বাস্তবে মিরপুর টেস্টে স্বাগতিকদের প্রাপ্তির খাতায় শুধুই শূন্য!
মিরপুরে দুই ইনিংসে মিলে বাংলাদেশ রান করেছে ২৩৩। ঘরের মাঠে এক টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম রান ২২৬, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেই ‘রেকর্ড’ যে ভাঙেনি, এটাই যা সান্ত্বনা।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেম্পারমেন্ট যে ভালো নয়, তা সবারই জানা। এক ম্যাচের দুই ইনিংসে ভালো ব্যাটিংয়ের নজির তেমন নেই। চট্টগ্রাম টেস্ট লিটন ও মুমিনুল হকের দৃঢ়তায় ড্র করলেও আজকের ব্যর্থতায় সেই সাফল্য অনেকটাই ম্লান।
বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে গড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতার ভালো সুযোগ ছিল। কিন্তু অতিথিদের ফাঁদে ফেলতে গিয়ে বাংলাদেশেরই সর্বনাশ হলো, সাবেক কোচ হাথুরুসিংহের শিষ্যরা মেতে উঠলো জয়ের আনন্দে। উপমহাদেশের দলগুলো এমনিতে স্পিনের বিপক্ষে ভালো খেলে। অথচ বাংলাদেশ স্পিন ট্র্যাক তৈরি করলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে! রোশেন সিলভা স্বাগতিকদের এমন সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিস্মিত, ‘আমাদের দলে অভিজ্ঞ স্পিনার আছে। উপমহাদেশের দলগুলো স্পিন ভালো খেলে। তারপরও বাংলাদেশ এমন স্পিনিং উইকেট কীভাবে বেছে নিলো এর উত্তর তারাই ভালো দিতে পারবে।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ তিন/চার জন পেসার নিয়ে মাঠে নামলেও সিরিজে দুই টেস্টেই পেসার হিসেবে শুধু মোস্তাফিজুর রহমান খেলেছেন। দলে দুই পেস বোলিং কোচ থাকতেও বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণ এমন কেন? প্রশ্নটা উঠছেই। তবে কি বোলারদের ভেতর থেকে পারফরম্যান্স বের করে আনতে ব্যর্থ দুই কোচ?
ভবিষ্যতে মানসিকতার পরিবর্তন না আনলে ব্যর্থতার মিছিল চলতেই থাকবে। শ্রীলঙ্কা সিরিজ সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, টেস্ট ক্রিকেটে ভালো খেলতে হলে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।








