ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থতার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। মাঠের পারফরম্যান্সের মতো মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় রীতিমতো বেসামাল টাইগাররা।
মিরপুর টেস্টের মাঝপথে মোসাদ্দেক-নাইম-রাব্বিকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি টিম ম্যানেজমেন্টের। সমালোচনার তীরে সবচেয়ে বেশি বিদ্ধ হচ্ছেন বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমালোচনা চলছেই। অভিমানে জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সুজন বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি আর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী নই। আসলে ক্রিকেটের সঙ্গেই আর থাকতে ইচ্ছে করছে না। সব কিছু নোংরা লাগছে। অনেক বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করছি। এখানে আমার কোনও স্বার্থ নেই। তবু আমাকে কথা শুনতে হচ্ছে, তাই আমি আর আগ্রহী নই।’
আগামী মাসে শ্রীলঙ্কার ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফিতে অংশ নেবে বাংলাদেশ ও ভারত। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে গুঞ্জন, এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসেলকে। তাই আগেই সরে দাঁড়াতে চাইছেন সুজন। শ্রীলঙ্কা সফরে দলের সঙ্গে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে সুজন বলেছেন, ‘এটা তো বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তবে কোনও বাংলাদেশিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখলে অনেকের সমস্যা হয়। বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পর আমি যে এখনও টিকে আছি, সেটাই তো তো বড় বিস্ময়! অনেক বড় বড় কোচের শুরুতে খারাপ রেজাল্ট হয়েছে। আমাদের ভুল পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশ খারাপ খেলতেই পারে।’
টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার জন্য পরোক্ষে ক্রিকেটারদের দায়ী করে সুজন বলেছেন, ‘উইকেট নিয়ে আমি কোনও অজুহাত দিতে চাই না, উইকেটের দোহাই দিয়ে লাভ নেই। তবে ক্রিকেটারদের সব ধরনের উইকেটে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে সিরিজের তিন ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফসেঞ্চুরি করা শ্রীলঙ্কার রোশেন সিলভার উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, ‘রোশেন সিলভা মিরপুরে জীবনের দ্বিতীয় টেস্ট (আসলে তৃতীয়) খেলেছে, সে এত ভালো খেললো কীভাবে? ওর কাছে উইকেট কঠিন ছিল না? সে পরিশ্রম করে, সংগ্রাম করে রান করেছে। আমাদের কাউকে তেমন সংগ্রাম করতে দেখিনি। আমাদের কোনও ব্যাটসম্যানকে দারুণ কোনও ডেলিভারিতে আউট হতে দেখিনি।’
দলের ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো আসামির কাঠগড়ায় তুলে সুজনের মন্তব্য, ‘আমি কখনোই মনে করি না উইকেটের কারণে আমরা হেরেছি। দিলরুয়ান, আকিলা, লাকমাল বা আমাদের মিরাজের ব্যাটিং দেখুন। ওরা তো বোলার। আসলে আমাদের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের কাজটা করতে পারেনি।’
টাইগারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ব্যথিত, ‘আমি মনে করেছিলাম, এই দল নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতা সম্ভব। আমাদের দুর্ভাগ্য, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সাকিব ছিল না, টেস্ট সিরিজে ছিল না, টি–টোয়েন্টিতেও হয়তো নেই। আসলে আমরা ভালো খেলতে পারিনি।’
সব ব্যর্থতা ভুলে সুজন এখন তাকিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে, ‘আশা করি, টি–টোয়েন্টিতে আমরা ভালো খেলবো। ত্রিদেশীয় আর টেস্ট সিরিজ হেরেছি, এখন বাকি টি–টোয়েন্টি সিরিজ। এটা জিততেই হবে।’








