আগামী মাসে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় নিদাহাস ট্রফির জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ( বিসিবি)। এই দলে কয়েকজন ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য কাকে, কেন নেওয়া হয়েছে সেই যুক্তি তুলে ধরলেন সবার কাছে।
সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিনি বললেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমাদের পারফরম্যান্স তেমন ভালো নয়। ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা যদি ১৮ জনের একটা পুল তৈরি করে ফেলতে পারি, তাহলে ভালো হয়। এই দল নিয়ে আমি আশাবাদী। তারা শ্রীলঙ্কায় ভালো লড়াই করতে পারবে।’
নিদাহাস ট্রফির দলে ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমানের নাম দেখে প্রশ্ন উঠতেই পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ ম্যাচে ৯.১৫ গড়ে ১১৯ রান করেছেন ইমরুল, সর্বোচ্চ রান ৩৬। এমন পারফরম্যান্সের পরও এই বাঁহাতি ওপেনারকে নেওয়ার কারণ হিসেবে নান্নু বলেছেন, ‘ইমরুল কায়েসকে নেওয়া হয়েছে তৃতীয় ওপেনার হিসেবে। টেস্টে ওপেন করে বলে সে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। শ্রীলঙ্কা দলে পেসারদের আধিক্য থাকবে। ভারতও অনেক পেসার নিয়ে খেলে। এই চিন্তা থেকেই ইমরুলকে নেওয়া হয়েছে।’
পরিসংখ্যান অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। ইমরুল যে পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে নড়বড়ে, কথাটা মনে করিয়ে দিলে প্রধান নির্বাচকের পাল্টা যুক্তি, ‘পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে অবশ্যই তার দক্ষতা আছে। গত সিরিজে ব্যর্থতার কারণেই আমরা এবার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছি।’
সাব্বিরকে নিয়েও প্রশ্ন আছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পাননি। এর আগেও ২০ ওভারের ক্রিকেটে সুবিধা করতে পারেননি। আগের পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ৫, ১৯, ১৯, ১৬ আর ১৮ রান। তবু শ্রীলঙ্কা সফরের দলে কেন সাব্বির? নান্নুর উত্তর, ‘গত এক বছরে সাব্বিরের টি-টোয়েন্টি রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখবেন, বাংলাদেশের পক্ষে ওরই সর্বোচ্চ রান। ওর অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট। যেহেতু বিদেশের মাটিতে দুটো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে লড়াই, তাই ওকে নেওয়া হয়েছে। ও পিএসএল খেলতে গেছে, আশা করি সেখানে ফর্মে ফিরবে।’
নান্নুর দেওয়া তথ্যে বিরাট ভুল আছে। গত এক বছরে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সৌম্য সরকারের। এই তালিকায় সাব্বিরের অবস্থান ৬ নম্বরে! তালিকাটা এমন—সৌম্য ৬ ম্যাচে ২০৫, মাহমুদউল্লাহ ৬ ম্যাচে ১৪৬, মুশফিকুর রহিম ৬ ম্যাচে ১১০, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৬ ম্যাচে ৮৮, সাকিব আল হাসান ৪ ম্যাচে ৬৪ এবং সাব্বির ৫ ম্যাচে ৬০ রান।
শ্রীলঙ্কা সিরিজে পাঁচ জন ক্রিকেটারের অভিষেক হলেও নিদাহাস ট্রফির দলে তাদের মধ্যে থেকে রাখা হয়নি মেহেদী হাসান, জাকির হাসান ও আফিফ হোসেনকে। এ প্রসঙ্গে নান্নুর ব্যাখা, ‘তামিম ফেরায় জাকির বাদ পড়েছে। আফিফকে আমরা নিয়েছিলাম সাকিবের বদলে। সাকিব যেহেতু ফিরেছে, তাই আফিফ বাদ। বিপিএলে ভালো খেলেছিল বলে ওদের দলে নিয়েছিলাম। ২০২০ বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের একটা ভিশন আছে। ওদের পুলে রেখেছি, এখন ধীরে ধীরে গড়ে তুলবো।’
শ্রীলঙ্কা সফরের দলে বড় চমক নুরুল হাসান সোহানের ফেরা। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলা সোহান চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরি সহ ৪১৪ রান করেছেন। এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের পারফরম্যান্সে প্রধান নির্বাচক সন্তুষ্ট, ‘সোহান ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো খেলছে। তাই ও দলে এসেছে।’ আর পেসার তাসকিন আহমেদের ফেরা নিয়ে নান্নুর মন্তব্য, ‘অধিনায়ক সাকিবের চয়েস ছিল তাসকিন। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে খেলা হবে। প্রেমাদাসার মাঠ বড়। সেখানে বেশি গতি আর শর্ট বল করতে দক্ষ পেসাররা ভালো করতে পারে। আর এই চিন্তা থেকেই তাসকিনকে দলে নেওয়া হয়েছে।’








