পঞ্চম বিপিএল শেষে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য ৩১ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেই দলে ছিলেন না নুরুল হাসান সোহান। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আর শ্রীলঙ্কা সিরিজেও তাই খেলা হয়নি। তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অবশ্য হতোদ্যম হয়ে পড়েননি। ব্যাট হাতে রানের বন্যা বইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন নিদাহাস ট্রফির দলে।
চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সোহানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে ৬ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও তিন হাফসেঞ্চুরি সহ ৪১৪ রান করেছেন তিনি। একটি টেস্ট আর দুটি ওয়ানডে খেললেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে ৯টি টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। যদিও ৮ ইনিংসে ব্যাট করে রান করেছেন ৭৮।
তবে এবারের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্য তার। প্রায় এক বছর পর জাতীয় দলে ফেরা সোহানের ‘আইডল’ মাশরাফি মুর্তজা। দলে ফেরার সুখবর পেয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে সব সময় কথা হয়। উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ক্রিকেট ছাড়াও উনার কাছ থেকে কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করি। উনার অনুপ্রেরণা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।’
গত বছরের হতাশা ভুলে এ বছর জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলার লক্ষ্য সোহানের। বছরের শুরুটা আশাবাদী করে তুলেছে তাকে, ‘এ বছরটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। চেষ্টা করেছি বছরটা একটু অন্যভাবে শুরু করার। যেহেতু ৬ নম্বরে ব্যাট করি, তাই অনেক সময় বেশি কিছু করার থাকে না। তবে এ বছরটা ভালোই কাটছে।’
কন্ডিশনিং ক্যাম্পে সুযোগ না পেলেও আত্মবিশ্বাস হারাননি সোহান, ‘ক্যাম্পের আগে জাতীয় লিগের কয়েকটি ম্যাচে ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারিনি। তবে নিজের ওপরে আস্থা ছিল, ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করেছিলাম। সফল হয়েছি বলে খুব ভালো লাগছে।’
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নিজের শহর খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সোহানের। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সব সংস্করণ মিলে মাত্র ১২টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ‘এবার জাতীয় দলে স্থায়ী হতে পারবেন? ’ প্রশ্নে সোহান যেন কিছুটা দ্বিধান্বিত, ‘এটা খুব কঠিন। কারণ টিমের সঙ্গে থেকে খেলার সুযোগ না পেলে মোটিভেশন ধরে রাখা খুব কঠিন। সুযোগ না পেলেও নিজেকে মোটিভেট করা, ঠিকমতো অনুশীলন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় নিজেকে তৈরি রাখতে চাই। দলে থাকা বা না থাকা কোনোটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’








