পাকিস্তান সুপার লিগে আগের তিন ম্যাচে তামিম ইকবালের স্কোর ছিল ১১, ৩৯ ও ১১। তার ব্যাটে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে বড় স্কোর করে জিতেছিল পেশাওয়ার জালমি। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার আরেকটি ঝলমলে ইনিংস খেলে দলকে ৫ উইকেটে জেতাতে অবদান রাখলেন বাংলাদেশি ওপেনার। তাছাড়া বাংলাদেশের আরেক তারকা সাব্বির রহমান তিনটি ক্যাচ নেন, পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ভূমিকা ছিল তার। তবে সুযোগ পেয়েও তাদের কেউই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। বরং চোট নিয়েও পেশাওয়ারকে রোমাঞ্চকর ম্যাচ জেতাতে ঝড় তুলেছিলেন ড্যারেন স্যামি।
শারজায় টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পেশাওয়ার। উমাইদ আসিফ, ওয়াহাব রিয়াজ ও ড্যারেন স্যামি ২টি করে উইকেট নিয়ে কোয়েটাকে ৮ উইকেটে ১৪১ রানে বেধে দেন। পিএসএলে অভিষেকেই প্রথম উইকেটে ভূমিকা ছিল সাব্বিরের। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে সামিন গুলের শিকার হন আসাদ শফিক, মিড উইকেটে তার ক্যাচ ধরেন সাব্বির। তাছাড়া দ্বিতীয় সেরা স্কোরার রাইলি রোসোর (৩৭) ক্যাচ ধরেন তিনি লং অনে। একই জায়গায় মোহাম্মদ নওয়াজকে তালুবন্দী করে ফেরান সাব্বির।
মাহমুদউল্লাহ ছিলেন না তামিমদের বিপক্ষে একাদশে। কোয়েটার পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান করেন শেন ওয়াটসন।
লক্ষ্যে নেমে তামিমকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি কামরান আকমল। ১০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই পাকিস্তানি ওপেনার। তার সঙ্গে ২৩ রানের জুটি গড়া তামিম ক্রিজ আঁকড়ে ধরে থাকেন। ডোয়াইন স্মিথের সঙ্গে জুটিতে যোগ করেন ৩০ রান।
১৪ বলে ২৩ রানে স্মিথ আউট হলে মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে পেশাওয়ারের জয়ের ভিত গড়েন তামিম। এই জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করে ৫৪ রান। এই জুটি ভাঙতেই বিপদের আভাস পেতে থাকে পেশাওয়ার।
হাফিজ ২৯ রানে আউট হলে ক্রিজে আসেন সাব্বির। কিন্তু দুই বাংলাদেশি তারকা বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি, জুটিটা ছিল ৫ রানের। ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে আনোয়ার আলীর থ্রোতে সরফরাজ আহমেদের কাছে রান আউট হন তামিম। ৩৮ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৩৬ রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দলীয় ১১২ রানে ফেরেন তামিম।
এরপর রাহাত আলীকে নিয়ে জয়ের জন্য লড়তে থাকেন সাব্বির। তার সামনে সুযোগ ছিল দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার। ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় বলে একটি চার মেরে জয়ের নায়ক হওয়ার আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বলে ছয় হাঁকাতে সীমানায় উমর আমিনের হাতে ক্যাচ দেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। ১১ বলে ১টি চার ১১ রান ছিল তার ইনিংসে। সাব্বির আউট হওয়ার পর ৯ বল বাকি থাকতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ক্রিজে নামেন স্যামি। তখনও জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৭ রান। পায়ের ব্যথায় ভুগতে থাকা এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান তার প্রথম বলেই ছয় মারেন।
শেষ ওভারে পেশাওয়ারের দরকার ছিল ১০ রান। স্যামি দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইকিং নিয়েই ছয় মারেন। চতুর্থ বলে তার ব্যাটে আসে জয়সূচক রান। পেশাওয়ার অধিনায়ক ৪ বলে দুটি ছয় ও এক চারে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হলেন তিনি।
১৯.৪ ওভারে পেশাওয়ার ৫ উইকেটে করে ১৪৩ রান।








