নামের পাশে হার না মানা ১১২ রানের ইনিংস। ম্যাচ শেষে মাথা উঁচু করে, সবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তবেই না বের হবেন। অথচ কেন উইলিয়ামসন মাঠ থেকে বেরিয়ে এলেন যেন শূন্য রানে আউট হয়ে। মাথা নিচু, চোখে মুখে হতাশার ছাপ; কারও সঙ্গে হাত মেলালেন না পর্যন্ত!
মেলাবেন কী করে, অসাধারণ সেঞ্চুরি করেও যে জেতাতে পারলেন না দলকে। তার ব্যাটিং বীরত্বের পরও ওয়েলিংটনের তৃতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ রানে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। বলতে গেলে একা হাতেই লড়াই চালিয়ে গেছেন ইংলিশদের ৫০ ওভারে ২৩৪ রানের জবাবে। কিন্তু তীরে গিয়েও তরী ভিড়াতে পারলেন না কিউই অধিনায়ক। নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৩০ রানে শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস। তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেল ২-১ ব্যবধানে।
কী চমৎকার ইনিংসটাই না খেললেন উইলিয়ামসন। মার্টিন গাপটিল (৩) শুরুতে আউট হওয়ার পর ভালো সঙ্গ পেয়েছিলেন তিনি কলিন মুনরোর কাছ থেকে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৬৮ রান। তবে ৪৯ রান করে মুনরোর আউটের পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা মঈন আলীর (৩/৩৬) ঘূর্ণিতে ৬ রান যোগ করতে তারা হারায় ৪ উইকেট! মার্ক চ্যাপম্যানকে (৮) দিয়ে শুরু, এরপর একে একে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন টম ল্যাথাম (০), হেনরি নিকোলস (০) ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (৩)।
সতীর্থদের ব্যর্থতার ভিড়ে আলো ছড়িয়েছেন উইলিয়ামসন। সত্যিকার অধিনায়কের মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কঠিন সময়ে বিপর্যয় কাটিয়ে কিউইদের নিয়ে গেছেন লক্ষ্যের কাছাকাছি। আর এই পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মিচেল স্যান্টনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হয়ে গেছেন এই স্পিনার। আগের ম্যাচে হার না মানা ৬৩ রানের ইনিংস খেলা স্যান্টনার এবার করেছেন ৪১ রান।
কিন্তু তার রানআউটই হয়তো কাল হয়ে দাঁড়ালো নিউজিল্যান্ডের জন্য। যদিও চেষ্টার কমতি রাখেননি উইলিয়ামসন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ ওভারে জমিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচ। জেতার জন্য শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের দরকার পড়ে ৫ রান। কিন্তু ক্রিস ওকসের করা ওয়াইড লেন্থের বলটি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি।
তাই ১৪৩ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় খেলা হার না মানা ১১২ রানের ইনিংসটির পরও হতাশায় মুখ লুকিয়ে মাঠ ছাড়লেন উইলিয়ামসন। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৩৪ (মরগান ৪৮, স্টোকস ৩৯, বাটলার ২৯; সোধি ৩/৫২, বোল্ট ২/৪৭)।
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৩০/৮ (উইলিয়ামসন ১১২*, মুনরো ৪৯, স্যান্টনার ৪১; মঈন ৩/৩৬, রশিদ ২/৩৪, ওকস ২/৪০)।
ফল: ইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: মঈন আলী।








