শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবালের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে লিটন দাসকে দেখে অবাক হতে হয়েছে। প্রথমবার টি-টোয়েন্টির ওপেনিংয়ে যে দেখা গেলো তাকে। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান আরও অবাক করে দিলেন বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে। দলের অবিশ্বাস্য জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া লিটন রবিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন, তার নতুন এই অভিজ্ঞতা।
২১৫ রানের টার্গেট পেয়েও তামিমের সঙ্গে লিটন দুরন্ত এক সূচনা এনে দেন। নিয়মিত ওপেনিং করা সৌম্য সরকারকে তিন নম্বরে নামিয়ে তাকে জায়গা দেওয়ার সুফল ভালোভাবে পেয়েছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সমন্বয়ে জয়ের পথ তৈরি করে তারা।
পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার এক বল আগে ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ফিরে যান লিটন। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে যখন মাঠ ছাড়েন তিনি, তখন তার স্কোর ১৯ বলে ৪৩ রান! প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে নেমে একটুও যে বুক কাঁপেনি তার, সেটা প্রমাণ করেছেন দুটি চার ও পাঁচটি ছয় মেরে। অচেনা পজিশনে এসেই এমন ইনিংস খেলার পর লিটন জানালেন, প্রস্তুত হয়েই নেমেছিলেন তিনি।
রবিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে লিটন বললেন, ‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে ওপেনিং করতে হবে, এটা আগের দিন আমাকে জানানো হয়েছিল। আমি এটার (ওপেনিং) সঙ্গে অভ্যস্ত। তাই আমার ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলার ছিল না। ব্যাট কীভাবে করতে হয় জানতাম।’
পরের ব্যাটসম্যানদের হালকা মেজাজে রাখতে শুরু থেকে মারকুটে থাকতে চেয়েছিলেন লিটন, ‘আমাদের তাড়া করার জন্য এটা ছিল খুব বড় স্কোর, ২১৫ রান। আমার মনে একটা ব্যাপারই কাজ করছিল, পাওয়ার প্লেতে যত বেশি সম্ভব রান করার এবং বাকি ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দেওয়ার।’
উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ সূচনা হওয়ার পর ৪ নম্বরে ব্যাট করতে আসেন মুশফিকুর রহিম। ৩৫ বলে ৭২ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। এটাকে অবিশ্বাস্য জয় বলতে চান না লিটন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আগে আমরা কখনও ২০০ রান করতে পারিনি এটা সত্যি। কিন্তু আমাদের যে সামর্থ্য নেই তা নয়। দলে সবার বিশ্বাস ছিল আমাদের দিনে যে কোনও জায়গায় এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে আমরা জিততে পারি।’
এই জয়ের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ ধরে রাখবে বিশ্বাস ২৩ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের, ‘জয় একটা অভ্যাস। আমি আশা করি এটা আমরা ধরে রাখবো এবং সামনের দিনের ম্যাচগুলোতেই একই গতিতে এগিয়ে যাবো।’








