একটা সময় ভারতের যুব দল উন্মুক্ত চাঁদের আলোতে জ্বলে উঠেছিল। ২০১২ সালে তার হাত ধরে যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ৬ বছর হয়ে গেলো, কিন্তু জাতীয় দলের ধারেকাছে আসার সুযোগ হয়নি উন্মুক্তের। এমনকি গত দুই আসরে আইপিএলও খেলতে পারেননি তিনি। তবে ‘এ’ দলের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। স্বপ্ন দেখেন পারফরম্যান্স দিয়ে একদিন জাতীয় দলে সুযোগ করে নেবেন। মঙ্গলবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের সুপার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে জেতানোর পর জানালেন সেই স্বপ্নের কথা।
গত কয়েক মৌসুম ধরেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন উন্মুক্ত। গত মৌসুমে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেললেও সুবিধা করতে পারেননি। তবে এবার শেখ জামালের হয়ে রীতিমতো বোলারদের শাসন করছেন ভারতীয় এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। দুই ম্যাচের দুটিতে খেলেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন। রূপগঞ্জের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ১২৭ রান করার পর মঙ্গলবার আবাহনীর বিপক্ষে খেললেন ১০১ রানের ইনিংস।
টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির মধ্যে সবশেষটায় বেশি খুশি উন্মুক্ত। কারণ এক নম্বর দলের বিপক্ষে এসেছে সেটা, ‘শীর্ষ দলকে হারিয়েছি, খুবই ভালো লাগছে। আমি খুব খুশি। আবাহনী এক নম্বর দল। তাদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পাওয়াটা সব সময় দারুণ কিছু।’
বাংলাদেশে খেলা দারুণ উপভোগ করছেন উন্মুক্ত। কারণটা জানালেন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে, ‘আমি বাংলাদেশে খেলা দারুণ উপভোগ করছি। এখানকার ক্রিকেট বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সেজন্যই ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে খেলোয়াড় এসে এখানে খেলে। এখানকার উইকেটও দারুণ।’
ভারতের এই ব্যাটসম্যানের বিশ্বাস আবাহনীর বিপক্ষে ২৬ রানের জয় তাদের বাকি ম্যাচগুলো জিততে সহায়তা করবে, ‘এই জয়ের ফলে ছেলেদের মধ্যে আত্নবিশ্বাস বাড়বে। আরও তিনটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি সবগুলো ম্যাচই আমরা জিতব।’
২০১২ সালে বিশ্বকাপ জিতিয়েও আইপিএল কিংবা জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। ভারতীয় লিগেও যথেষ্ট রান নেই। এটা মনে করিয়ে দিতেই কিছুটা বিরক্তির ছাপ তার চোখেমুখে, ‘আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। যেখানেই খেলি, সেটা নিয়েই চিন্তা করি। যেহেতু আমি এখন এখানে খেলছি, সেহেতু এখানকার সেরা হওয়াই আমার লক্ষ্য। পারফরম্যান্স করতে পারলে হয়তো একদিন জাতীয় দলে খেলব।’
৬ বছর আগে যুব দলের শিরোপা জয়ের পর ভারতের গণমাধ্যমগুলো বিরাট কোহলির সঙ্গে তুলনা করেছিল উন্মুক্তকে। তাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল তোলপাড়। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপণ, বিভিন্ন পণ্যের দূত, মডেলিং, কভার ফটোশুটে উন্মুক্ত ছিলেন নিয়মিত মুখ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি তাকে নিয়ে লেখা হয় বই- ‘স্কাই ইজ দ্য লিমিট।’ সেখানে রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মন ও সঞ্জয় মাঞ্জরেকার প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন তাকে।
কিন্তু এত প্রশংসা যিনি পেলেন, তিনি জাতীয় দলের জার্সি একবারও গায়ে দিতে পারলেন না। হয়তো একদিন পারবেন, সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই হাঁটছেন ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।








