মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাংকিংয়ের আটে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর গত ১৮ বছরে প্রথমবার এতটা উপরে ওঠায় গর্বিত বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার।
কক্সবাজারে সাবেক ক্রিকেটারদের মিলনমেলা ‘মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভাল’ দিয়ে। অন্য সাবেক ক্রিকেটারদের মতো হাবিবুলও অংশ নিয়েছেন ১০০ বলের টুর্নামেন্টে। সেখানেই টেস্ট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন তিনি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।
টেস্ট আঙিনায় বাংলাদেশ পা রাখে ২০০০ সালে। অথচ ১০ থেকে ৮-এ আসতে লেগে গেল ১৮ বছর। হাবিবুল অবশ্য লম্বা সময়কে খুব বেশি আমলে নিতে চাননি, কারণ, ‘মনে হতে পারে একটু দেরি হয়ে গেল। কিন্তু চিন্তা করলে দেখবেন, আমরা যখন শুরু করি, একেবারে শূন্য ছিলাম। প্রতিপক্ষ ছিল একশ, আমরা ছিলাম জিরো। আমাদের অবকাঠামোও তখন অতটা ভালো ছিল না। গত পাঁচ বছরে আমরা পারফর্ম করতে শুরু করি। আমার মনে হয় সেটারই প্রতিফলন এবারের আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে।’
সময় বেশি লাগলেও তাই এই অর্জনে খুশি তিনি, ‘আমরা যেহেতু সময় নিয়ে এই জায়গায় এসেছি, তাই শক্ত হয়েই এসেছি। আমি অবশ্যই খুশি। এখন লক্ষ্য থাকবে এখান থেকে কত বেশি সামনে যাওয়া যায়।’
বাংলাদেশ এখন যতটা টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছে, আগে এতটা ছিল না। অতীতে খেলার সুযোগ বেশি পেলে র্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো বলে মনে করেন হাবিবুল, ‘আমরা খুব কম টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি। ওই হিসেবে টেস্টের আট নম্বরে ওঠাটা বেশ কঠিনই ছিল। সামনের দিনগুলোতে আমাদের টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে। আমার বিশ্বাস আমরা সামনের দিনগুলোতে ভালো খেলতে পারব।’
বাংলাদেশ দলের নির্বাচকের ভূমিকায় থাকা হাবিবুল মনে করেন, সঠিক পথেই আছে টাইগারদের টেস্ট ক্রিকেট। তার বক্তব্য, ‘আমার মনে হয় ঠিক আছে। ঘরোয়া ক্রিকেট ভালো হচ্ছে। ঘরোয়া পর্যায়ে আমাদের উইকেটকে আদর্শ বলব না, তবে আগের চেয়ে খুব ভালো হয়েছে। গত পাঁচ বছর আগের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের তুলনায় এখন ব্যাটসম্যানরা সেঞ্চুরি বেশি করছে, বোলাররা বেশি উইকেট পাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অবস্থা দেখলে বোঝা যায়, আমরা সঠিক পথেই আছি।’
২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলবে ৩৫ টেস্ট। নতুন এফটিপিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পরই সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। অথচ গত ১৮ বছরে বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র ১০৬ টেস্ট! এখন তাই র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার আরও ভালো সুযোগ তৈরি হচ্ছে সাকিব-মুশফিকদের সামনে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান, এমন প্রশ্নে হাবিবুল বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস পরের ধাপে যেতে ১৮ বছর লাগবে না বাংলাদেশের। আগামী পাঁচ বছরে আমি বাংলাদেশকে আরও উঁচুতে দেখতে চাই। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ, এগিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের সপ্তম স্থানে বাংলাদেশ। ছয়ে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে পার্থক্য ৯ পয়েন্টের। অন্যদিকে টেস্ট র্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে থাকা পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮৬, বাংলাদেশের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। যদিও ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষারই আভাস পাচ্ছেন সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমাদের জন্য এখন সব সিরিজই চ্যালেঞ্জিং। কোনও সিরিজই সহজ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের তুলনায় এখন একটু পিছিয়ে বা একটু বাজে খেলছে, তারপরও ওরা কিন্তু সবসময় ভালো দল। ওদের কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা হঠাৎ ভালো খেলে জিতিয়ে দেয়। এটাই ওদের সংস্কৃতি। সিরিজটা আমাদের জন্য কঠিন হবে।’








