ক্রিকেটে মজেছেন সেই ছোট্টবেলা থেকে। ‘প্রথম’ ভালোবাসাকে হৃদয়ের গভীরে রেখে সাফল্যের শৃঙ্গে বসার শপথ নেন তিনি। সঙ্গে পেয়েছিলেন পরিবারের পূর্ণ সমর্থন। আর কী লাগে; সাকিব আল হাসান এগিয়ে চলেছেন লক্ষ্যের পথে। সব বাধা ডিঙিয়ে সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে এখন তিনি ক্রিকেট আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
কখনও অন্যকিছু হওয়ার স্বপ্নও দেখেননি তিনি, ভেবেছেন শুধু ক্রিকেট নিয়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা বলাই যায়, প্রায় সব বাবা-মা স্বপ্ন দেখেন ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে। সাকিবের সে ইচ্ছা ছিল না কখনই। তার বাবা-মাও নিজেদের ইচ্ছা ছেলের ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং সাকিব যে পথে হাঁটতে চেয়েছেন, সেই পথেই ফুল ছড়িয়েছেন তারা। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার হওয়ার এই গল্পের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আইপিএল নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।
ক্রিকেটার হওয়ার পেছনের গল্পটা সাকিব শুনিয়েছেন এভাবে, ‘ছোট একটা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। জন্মের পর থেকে আমরা চিন্তা করি আমাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে ভালো ক্যারিয়ারের জন্য। হতে হবে সরকারি চাকুরিজীবি, ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার- স্বাভাকিভাবে এসবই স্বপ্ন থাকে সবার। তবে আমার মনের মধ্যে অন্যকিছুই ছিল।’
আর এই স্বপ্ন পূরণের পথে তার পরিবারের অবদানের কথাও সামনে আনলেন সাকিব, ‘এই জায়গায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, কারণ আমার বাবা-মা আমার স্বপ্নের মধ্যেই থাকতে দিয়েছেন। এজন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের সমর্থন ছাড়া আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করতে পারতাম না। কৃতিত্ব পাবেন আমার শিক্ষকরাও।’ ক্রিকেটের মানে সাকিবের কাছে, ‘ক্রিকেট আমার কাছে সবকিছু। এটাই আমার প্রথম ভালোবাসা। যা বললাম, সবকিছু। আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে, সবই ক্রিকেটের জন্য।’
ছয় বছর কলকাতা নাইট রাইডার্সে কাটিয়ে এবারের আইপিএলে তিনি যোগ দিয়েছেন হায়দরাবাদে। এসেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। এই মুহূর্তে হায়দরাবাদ রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। দলের এই সাফল্যে অবদান রাখতে পেরে খুশি বাংলাদেশি অলরাউন্ডার, ‘অবশ্যই আশি ভীষণ খুশি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অংশ হতে পেরে। এই পারফরম্যান্সের অনেকটাই কৃতিত্ব পাবে কোচিং স্টাফ, তাদের খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধরণের জন্য। কেউই কোনও ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েনি দলকে একতাবদ্ধ করতে। যে কারণে দলের সবাই মনে করি আমরা একটি পরিবার।’
একই সঙ্গে জানিয়ে রাখলেন নতুন দলে সুখেই আছেন তিনি, ‘দলের এগিয়ে যাওয়ার পথে অবদান রাখতে পারায় আমি খুশি। অবশ্যই নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। সবকিছু মিলিয়ে চলতি প্রতিযোগিতা নিয়ে আমি বেশ উত্তেজিত। আমরা সাত ম্যাচ খেলেছি, আরও অনেক দূর যেতে হবে। তবে এই মুহূর্তে আমি ভালো ও সুখে আছি।’ পারফরম্যান্সের ধারা সচল থাকলে শিরোপা জেতার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন তিনি হায়দরাবাদের, ‘সামনে আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব অপেক্ষা করছে। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, পারফরম্যান্সের এই ধারা নকআউট পর্বে কতটা সচল রাখতে পারি। শিরোপা জেতার ভালো সুযোগ আছে আমাদের।’
ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব। বাঁহাতি অলরাউন্ডারের বক্তব্য, ‘এখানকার (ভারতীয়) সংস্কৃতি আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। প্রত্যেক প্রদেশে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি। তাই আমাকে আলাদা আলাদা জায়গা ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে এবং অনেক নতুন কিছু সম্পর্কে জানতে পারছি। আপনি হায়দরাবাদে গেলে এক রকম পরিবেশ পাবেন, কলকাতায় আবার অন্যরকম। জয়পুরে এক রকম পরিবেশ, মুম্বাই-দিল্লিতে আবার আলাদা- সবকিছু মিলিয়ে ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে আমার।’








