আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু পাওয়ার প্লের ফায়দা নিয়ে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়ে দুই আফগান ওপেনার উসমান ঘানি ও মোহাম্মদ শাহজাদ। উসামনকে ফিরিয়ে রুবেল হোসেন ওই জুটি ভাঙার পর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শাহজাদকে নিজের শিকার বানান সাকিব আল হাসান। এক ওভার বিরতি দিয়ে মাহমুদউল্লাহ তুলে নিয়েছেন আফগানিস্তানের তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট। ১৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৯১ রান আফগানদের।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে উসমানের লেগ স্টাম্প ভেঙে দেন রুবেল। নবম ওভারের তৃতীয় বলে ভাঙে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি। উসমান ২৪ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ২৬ রান করেন।
৩.৩ ওভারে আসগর স্তানিকজাইয়ের সঙ্গে ২৪ রানের জুটি গড়া শাহজাদ ৩৮ রানে সাকিবের হাতে জীবন পান। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিরতি ক্যাচ ধরতে পারেননি বাংলাদেশি অধিনায়ক। তবে ওই ওভারের শেষ বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ হন শাহজাদ। ৩৭ বলে ৫টি চারে ৪০ রান করেন আফগান ওপেনার।
১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত করেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের প্রথম ওভারে দ্বিতীয় ও পঞ্চম বলে নাজিবউল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবীকে ফেরান তিনি। মাত্র ৫ বল খেলে ২ রান করে থার্ড ম্যানে দাঁড়ানো আবু জায়েদ রাহীর হাতে ক্যাচ দেন নাজিবউল্লাহ। নিজের দ্বিতীয় বলে রানের খাতা না খুলে বোল্ড হন নবী।এনিয়ে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে ঘরের মাঠে ৯ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এতদিন পর প্রেক্ষাপট, রণকৌশল আর শক্তিমত্তার অনেক কিছুই বদলে ফেলেছে আফগানরা। যার প্রমাণ দিয়ে রেখেছে প্রস্তুতি ম্যাচে। আফগানিস্তান ‘এ’ দল সাকিবের বাংলাদেশকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে।
দেরাদুন আফগানিস্তানের জন্য ‘ঘরের মাঠ’। দেশের মাটিতে নিরাপত্তা অবস্থা স্বাভাবিক নয় বলে তারা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশকে। আফগান অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাইও দেরাদুনের সঙ্গে ঘরের মাঠের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। তাই তাদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচটাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব।
টস হওয়ার পর ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশি অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে। ছেলেরা বিশ্রামের ভালো সময় পেয়েছিল এবং ক্যাম্পে ও এখানে কয়েক দিন প্রস্তুতি নিয়েছে যথেষ্ট। আমরা একই দল নিয়ে খেলছি।’ প্রতিপক্ষ দলের স্পিনার রশিদ খানকে নিয়ে তিনি বলেছে, ‘সে এক নম্বর বোলার। তাকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, আবুল হাসান, নাজমুল ইসলাম ও আবু জায়েদ রাহী।
আফগানিস্তান দল: মোহাম্মদ শাহজাদ (উইকেটরক্ষক), উসমান ঘানি, আসগর স্তানিকজাই (অধিনায়ক), শফিকউল্লাহ, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, করিম জানাত ও শাপুর জাদরান।








