প্রায় ৮ মাস প্রধান কোচ ছাড়া খেলেছে বাংলাদেশ। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ছেড়ে যাওয়া জায়গায় এই সময়ে অনেকের নামই শোনা গেছে। অবেশেষে বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে মাশরাফি-সাকিবদের নতুন কোচ। দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসের হাতে।
নতুন কোনও সিরিজ সমনে এলেই প্রশ্নটা ঘুরেফিরে এসেছে- কবে পূণকালীন কোচ পাবে বাংলাদেশ? উত্তরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে বারবার জানানো হয়েছে, সামনেই আসছে কোচ। প্রধান কোচ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত কোচ দিয়ে গত কয়েক মাস চালিয়েছে বিসিবি। যেখানে সাফল্যের পাশাপাশি আছে ব্যর্থতার গল্পও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলতি সিরিজ যার বড় উদাহরণ।
অনেক আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা শেষে অতঃপর প্রধান কোচ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। তার আগে চলেছে অনেক নাটক। হাথুরুসিংহের চলে যাওয়া ও স্টিভ রোডসের দায়িত্ব পাওয়ার মাঝের সময়টায় কোচ অনুসন্ধানের চিত্র বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
হাথুরুসিংহের পদত্যাগ
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের মাঝ পথে হুট করেই পদত্যাগপত্র জমা দেন হাথুরুসিংহে। বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসানকে ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগের কথা জানান শ্রীলঙ্কান কোচ। কিন্তু সিরিজ চলাকালে এমন বিষয় নিয়ে কথা-বার্তা চালানোর প্রয়োজন বোধ করেননি বোর্ড প্রধান। হাথুরুসিংহের পদত্যাগের খবরে ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন ওঠে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়া হাথুরুসিংহে তার দায়িত্ব পালনের সময়ে দারুণ কিছু সাফল্য উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টাইগারদের সেমিফাইনাল খেলা। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও গত নভেম্বরে ভেঙে যায় বিসিবি-হাথুরুসিংহের সম্পর্ক।
শোনা যায় অনেকের নাম
হাথুরুসিংহের বিদায়ের পরপরই প্রধান কোচ নিয়োগে জোর দেয় বিসিবি। যদিও কোচ নিয়োগ আলোর মুখ দেখেনি। ঘরের মাঠে খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে ব্যর্থ হয়ে আবারও কোচ নিয়োগে মনোযোগী হয় বিসিবি। ‘শর্ট লিস্ট’ করে কোচদের নামও চূড়ান্ত করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। তালিকাতে ছিল ফিল সিমন্স, রিচার্ড পাইবাস, গ্যারি কারস্টেন, নীল ম্যাকেঞ্জি, জিওফ মার্শ ও টম মুডির মতো কোচদের নাম। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় এসে রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স সাক্ষাৎকার দিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই সাকিবদের কোচ করতে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি বিসিবি। গ্যারি কারস্টেনকে কোচ হিসেবে পছন্দ হলেও তিনি বাংলাদেশে লম্বা সময় কাজ করতে আগ্র্রহী নন বলে জানা গিয়েছিল। কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতের শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকে দেওয়া হয় ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব।
কারস্টেন এলেন, তবে...
প্রধান কোচ হিসেবে গ্যারি কারস্টেনকে না পাওয়ায় তাকে পরামর্শক হিসেবে চেয়েছিল বিসিবি। শুরুতে রাজি থাকলেও পরে পরামর্শকের দায়িত্ব নিতেও অস্বীকৃতি জানান দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। তবে শেষ পর্যন্ত টাইগারদের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। কাকে কোচ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে, এই বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি বিসিবিকে। গত ২০ মে তিনি ঢাকায় এসে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেন। তিনিই সাবেক ইংলিশ উইকেটরক্ষক রোডসের ব্যাপারে বিসিবিকে সুপারিশ করেন।
রোডসের হাতেই দায়িত্ব
‘শর্ট লিস্টে’ রোডসের নাম থাকাতে বিসিবিও তার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে কারস্টেনের পরামর্শ মিলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রোডসকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বেক্সিমকোর কার্যালয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন, ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১১ টেস্ট ও ৯ ওয়ানডে খেলেছেন রোডস। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিবের সঙ্গে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ২০১০ সালে কাউন্টি দল ওস্টারশায়ারের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব, ওই সময় রোডস দলটির ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে কাজ করেছেন। টম মুডি দায়িত্ব ছাড়ার পর ২০০৫ সালের মে মাসে ওস্টারশায়ারের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। এরপর ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন ক্লাবটির ক্রিকেট ডিরেক্টর। এবার বাংলাদেশ দিয়ে প্রথমবার কোনও জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন রোডস।








