খুব বেশি দিন নয়, এক মাস আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই শোচনীয় পারফরম্যান্স হয়তো কারও মনেই নেই, থাকার কথাও নয়। মালয়েশিয়ায় এশিয়া কাপ ফাইনালে উঠে ওই হতাশা ভুলিয়ে দিয়েছেন সালমা-রুমানারা। রবিবার ভারতকে হারাতে পারলেই হয়, ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশের মেয়েরা।
কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভালে দুপুর ১২টায় ‘সবচেয়ে অভিজ্ঞ’ ভারতের মুখোমুখি হবে ফাইনালের ‘নবাগত’ দল বাংলাদেশ। সবচেয়ে অভিজ্ঞ বলার কারণ গত ছয়টি এশিয়া কাপেই ফাইনাল খেলেছে ভারত, জিতেছেও সব কয়েকটি শিরোপা। আর প্রথমবার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। তাই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাদের।
কিন্তু অভিজ্ঞতায় ভারত এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের চূড়ায়। এই এশিয়া কাপে দারুণ খেলে ফাইনালে উঠেছে তারা। শুরুটা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার কাছে হার দিয়ে। তারপর তো দুরন্ত জয়যাত্রা, যাতে বাংলাদেশের শিকার হয়েছে পাকিস্তান, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া।
গত দুটি ম্যাচ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাই এই ম্যাচ দুটি জেতায় যারা বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান তারা যদি ফিরে দেখেন তারও আগের দুটি ম্যাচ, তাহলে আর কোনও সংশয় থাকার কথা নয়।
দুইবারের রানার্সআপ পাকিস্তানকে ৯৫ রানে আটকে দিয়ে ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। তারপর ১৪২ রানের টার্গেটে নেমে ভারতকেও একই ব্যবধানে হারান সালমারা। তাদের বিপক্ষে এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জয়।
ওই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি এবারও করতে চাইবেন সালমারা। রুমানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেটে ১৪১ রান করেছিল ভারত। ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তারপর ৩৪ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ম্যাচ জেতান রুমানা। ফারজানা হকের ব্যাটও হেসেছিল, ৪৬ বলে ৫২ রানে ম্যাচ জয়ে অপরাজিত থাকেন।
ওপেনার শামীমা সুলতানা ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন। পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে ৩১ ও ৩৩ রান করে দারুণ শুরু এনে দেন বাংলাদেশের ওপেনার। সবশেষ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে করেন ৪৩ রান।
বল হাতে রুমানার সঙ্গে অবদান রাখতে পারেন সালমা ও নাহিদা আক্তার। স্পিনে দারুণ কিছু করে দেখানোর অপেক্ষায় খাদিজা তুল কুবরা।
সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশের মেয়ে ক্রিকেটাররা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে লিগ পর্বে ভারতকে হারানোর টাটকা স্মৃতিই তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণার। এখন সেটা মাঠের খেলায় ব্যবহার করা বাকি। টানা চার ম্যাচ জেতা বাংলাদেশ কিন্তু জয়ের স্বপ্নই দেখছে। ক্রিকইনফো, আইসিসি








