টানা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঝলমলে জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। হাফসেঞ্চুরি করে দুজনেই বিদায় নিলেও মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্যে ৪২ ওভারে ৩ উইকেটে তাদের রান ২১৪।
তামিম-সাকিবের হাফসেঞ্চুরির আগে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলীয় রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে আলজারি জোসেফকে বাউন্ডারি মারেন সাকিব আল হাসান। তাতে বাংলাদেশ তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি পায়।
ব্যাটিংয়ে ঝড়ো সূচনা করেন প্রথম ম্যাচে রানের খাতা না খুলে বিদায় নেওয়া এনামুল হক। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা পুষিয়ে নেওয়ার আভাস দিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ঝড় তুলেছিলেন। কিন্তু ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি বাংলাদেশের ওপেনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ২৭২ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ৩২ রানে।
এনামুলের মারকুটে ব্যাটিংয়ে মাত্র ২ ওভারে ২০ রান করে বাংলাদেশ। এই ওপেনার মাত্র ৮ বলে দুটি করে চার ও ছয় মারেন। কিন্তু তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্টাম্প ছেড়ে মারতে গিয়ে এনামুল বোল্ড হন আলজারি জোসেফের বলে। মাত্র ৯ বলে ২৩ রান করে আউট হন বাংলাদেশের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
তারপর তামিম ও সাকিব শক্ত জুটি গড়েন। কিন্তু দেবেন্দ্র বিশু তার প্রথম ওভারে তামিমকে ফিরিয়ে ৯৭ রানের এ জুটি ভাঙেন। ৭১ বলে ৪২তম হাফসেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি ওপেনার সামনে এগিয়ে মারতে চাইলে শাই হোপ তাকে স্টাম্পিং করেন। ৮৫ বলে ৬ চারে ৫৪ রান করেন তামিম। বিশু তার পরের ওভারে সাকিবের বিরুদ্ধে জোরালো এলবিডাব্লিউর আবেদন করে উদযাপনে মাতেন। কিন্তু বাঁহাতি অলরাউন্ডার রিভিউ নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলান। তারপরও ৬২ বলে হাফসেঞ্চুরি করা সাকিব ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৭২ বলে ৫ চারে ৫৬ রানে তিনি আউট হন অ্যাশলে নার্সের বলে কিমো পলের ক্যাচ হয়ে।
এর আগে বোলিংয়ে দারুণ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। দ্রুত টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যানকে ফেরায় তারা। কিন্তু শিমরন হেটমায়ার সেঞ্চুরি করে সফরকারীদের কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নেন। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে করেছে ২৭১ রান। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিততে বাংলাদেশের করতে হবে ২৭২ রান।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুতেই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের সপ্তম ওভারে মাশরাফি মুর্তজা এলবিডাব্লিউ করেন এভিন লুইসকে (১২)। বাংলাদেশের অধিনায়ক তার চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ২৯ রানে ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে লুইসকে নিজের শিকার বানান মাশরাফি।
শাই হোপকে নিয়ে ক্রিস গেইল জুটিটা বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ২৯ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডাব্লিউ হন ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ৫৫ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। তারপর হোপকে ২৫ রানে কভারে সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানান সাকিব আল হাসান।
২৪তম ওভারে বল হাতে নিয়েই উদযাপন করেন রুবেল হোসেন। আগের ম্যাচে প্রথম বলে উইকেট পাওয়া এই পেসার এদিন পঞ্চম বলে জেসন মোহাম্মদকে (১২) মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান। ১০২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কিন্তু শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েল একসঙ্গে ক্রিজে থেকে সেই চাপ কাটান। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি হাঁকিয়ে শক্ত জুটি গড়েন হেটমায়ার। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ১০৩ রানের জুটি গড়েন। তবে ৪৪ রানে রভম্যানকে বোল্ড করে তাদের বিচ্ছিন্ন করেন রুবেল। তিন বল পরই হেটমায়ারকে ৭৯ রানে আউট করতে পারতেন তিনি। কিন্তু সাকিব ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ ছেড়ে দেন।
ক্যাচ মিস করার প্রায়শ্চিত্ত সাকিব করেন জেসন হোল্ডারকে (৭) স্টাম্পিং করে। এক ওভার বিরতি দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান অ্যাশলে নার্সকে (৩) তামিম ইকবালের ক্যাচ বানান। তারপর টানা দুই ওভারে কিমো পল ও দেবেন্দ্র বিশু উইকেট হারান রুবেল ও মোস্তাফিজের বলে। জীবন পাওয়া হেটমায়ার ৮৪ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়ে সেঞ্চুরি করেন। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে তিনি রান আউট হন ১২৫ রানে। তার ৯৩ বলের ইনিংসে রয়েছে ৩ চার ও ৭ ছয়।
রুবেল সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। দুটি করে পেয়েছেন মোস্তাফিজ ও সাকিব।







