এ বছরের শুরু থেকে ওয়ানডেতে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করছেন সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে তিন নম্বরে তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের বড় অবদান। নতুন ভূমিকায় সাকিবের দৃঢ় মানসিকতা দেখে মুগ্ধ তার গুরু নাজমুল আবেদিন ফাহিম।
অনেক দলেই সেরা ব্যাটসম্যানের জন্য বরাদ্দ থাকে তিন নম্বর পজিশন। ওয়ানডেতে ভারতের বিরাট কোহলি, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন, জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর, ইংল্যান্ডের জো রুট কিংবা বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ ‘নাম্বার থ্রি’ ব্যাটসম্যান। ব্রায়ান লারা, কুমারা সাঙ্গাকারা, রাহুল দ্রাবিড়, জ্যাক কালিসের মতো কিংবদন্তিরা ব্যাট করতেন তিন নম্বরেই।
অথচ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তিন নম্বর পজিশন নিয়ে অনেক দিন ধরে সমস্যায় বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানদের দিয়ে অনেক চেষ্টা করেও সফল হয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। অবশেষে সাকিবের হাত ধরে এই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে সম্ভবত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন নম্বরে ব্যাট করা সাকিবের অনবদ্য পারফরম্যান্স। প্রথম ম্যাচে ১ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর তামিমকে সঙ্গে নিয়ে রেকর্ড ২০৮ রানের জুটি গড়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, যেখানে তার অবদান ৯৭। পরের ম্যাচে আবার হাফ সেঞ্চুরি (৫৬) আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। শেষ ম্যাচে তার ৩৭ রানের ইনিংসটার গুরুত্বও কম নয়।
ওয়ানডেতে ওপরের দিকে ব্যাট করার ইচ্ছের কথা অনেকবারই জানিয়েছেন সাকিব। শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর তিন নম্বর পজিশনটা এখন তারই অধিকারে। ১৮৮ ম্যাচে ৩৫.৫০ গড়ে ৫ হাজার ৪৩৩ রান করা সাকিবের ‘নাম্বার থ্রি’ পজিশনের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো। তিন নম্বরে ৯টি ম্যাচে ব্যাট করে ৩৮২ রান করেছেন তিনি, যেখানে গড় ৪২.৪৪।
ক্যারিবিয়ানে ওয়ানডে সিরিজে সাকিবের ব্যাটিং নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিসিবির অভিজ্ঞ কোচ ফাহিম। শিষ্যর প্রশংসা করে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনে খেলা খুব একটা সহজ নয়। প্রথম ওয়ানডেতে স্পিনিং উইকেট ছিল। ওই ম্যাচে সাকিবের মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিজের স্বাভাবিক খেলা না খেলে সে নিজেকে কন্ট্রোল করেছে, যা অনেক বড় প্রাপ্তি। এমন ৩/৪টি ইনিংস খেলতে পারলেই নিজের খেলার ধরন নিয়ে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়। আমি নিশ্চিত, সাকিব এখন নিজের খেলা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে। সে বুঝতে পারবে, তার আসলে কীভাবে খেলা উচিত।’








