ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্যের খোঁজে নেমেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তাদের রান ১২১। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
টেস্টে একপেশে সিরিজ হারের পর ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে ৯ বছর পর সিরিজ জয়ের আনন্দ নিয়ে তারা সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি। বুধবার প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় ক্যারিবিয়ানরা। আর প্রথম ওভারেই তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারকে বিদায় করে চাপে ফেলে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের প্রথম বলে অ্যাশলে নার্সকে উইকেট ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে দিনেশ রামদিনের কাছে স্টাম্পিং হন তামিম। ওয়ানডে সিরিজের শীর্ষ ব্যাটসম্যান রানের খাতা না খুলে নেন বিদায়। চতুর্থ বলে সৌম্য সরকার হন বোল্ড। প্রথম বল খেলেই সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। মাত্র ৪ বলে ২ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ ওভারে আবার জোড়া আঘাতের ধাক্কা।
কিমো পল প্রথম ওভারে পরপর দুই বলে ফেরান লিটন দাস (২১) ও সাকিব আল হাসানকে (১৯)। লিটনকে ক্যাচ নিয়ে ফেরান আন্দ্রে ফ্লেচার, আর সাকিব ধরা পড়েন কেসরিক উইলিয়ামসের হাতে। ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর ক্ষত বাংলাদেশ কিছুটা সামলে ওঠে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে। জুটিটা ঝড় তুললেও ৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি। ৯.৩ ওভারে কেসরিকের বলে রভম্যান পাওয়েলের ক্যাচ হন মুশফিক। ১৫ রান করেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। সমান রান করে আউট হন আরিফুল হক। আন্দ্রে রাসেলের কাছে বোল্ড হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ২৬ রানের জুটি গড়েন তিনি।
কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও র্যাংকিংয়ে দুই দলের তেমন ফারাক নেই—ক্যারিবীয়রা ৭ আর বাংলাদেশ ১০ নম্বরে। মুখোমুখি লড়াইয়েও সাকিব-তামিমরা তেমন পিছিয়ে নেই। এর আগে ৬ বার মুখোমুখি হয়ে দুবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হেরেছে তিনবার, অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত। প্রথম জয় এসেছিল প্রথম দেখাতেই, ২০০৭ বিশ্বকাপে মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদের দুর্দান্ত ফিফটিতে। মিরপুরে চার বছর পর দ্বিতীয় জয়ে বড় অবদান মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৪১ রানের।
বাংলাদেশের আগের টি-টোয়েন্টিতে খেলা আবু জায়েদ রাহী এবার নেই। একাদশে জায়গা পেয়েছেন রুবেল হোসেন। আর সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা ক্রিস গেইলকে।
বাংলাদেশ একাদশ: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম, রুবেল হোসেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস, মারলন স্যামুয়েলস, দিনেশ রামদিন, রভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেল, অ্যাশলে নার্স, স্যামুয়েল বদ্রি, কেসরিক উইলিয়ামস, কিমো পল।








